‘আমরাই আসল তৃণমূল!’, কমিশনকে নথি জমা দিয়ে অভিষেককে ‘চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট’ কটাক্ষ ঋতব্রতর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দিল্লি: তৃণমূলের দখলদারি নিয়ে লড়াই তুঙ্গে। এবার দিল্লি গিয়ে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করলেন ‘বিদ্রোহী’ নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীরা। কমিশন থেকে বেরিয়ে এসে ঋতব্রতর স্পষ্ট দাবি, দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধি তাঁদের সঙ্গেই রয়েছেন, তাই তাঁরাই ‘আসল তৃণমূল’। একই সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধলেন ‘চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট’ বলে।
অভিষেককে তোপ ঋতব্রতর
দিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বলেন, “তৃণমূল দলটা ধীরে ধীরে পারিবারিক হয়ে গিয়েছিল। আমরা সেই দলটাকে আবার তৃণমূল স্তরে ফেরাতে চাই।” অভিষেকের নাম না করে তাঁকে ‘চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। ঋতব্রতর ইঙ্গিত, অভিষেকের বিলাসবহুল চার্টার্ড বিমানে যাতায়াত এবং কাজের ধরন দলের আদর্শের সঙ্গে মেলে না। তাঁর দাবি, “চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাটের কথায় দল চলবে না, আমাদের লড়াই ব্যক্তি ও পরিবারের বিরুদ্ধে।”
কুণালের পাল্টা জবাব
ঋতব্রতদের এই দাবিকে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি সাফ জানান, “তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমস্ত কর্মী ও সমর্থক তাঁর সঙ্গেই আছেন।” কুণাল আরও বলেন, “দুই মাস আগে এই মানুষগুলোই কমিশনে হলফনামা দিয়েছিলেন, যেখানে মমতা ও অভিষেকের সই ছিল। ভাড়াটিয়া কি হঠাৎ নিজেকে বাড়ির মালিক বলে দাবি করলেই মালিক হয়ে যায়?”
কমিশনে ঋতব্রত শিবিরের দাবি
গত ২২ জুন একটি বিশেষ অধিবেশনে মমতা ও অভিষেককে বাদ দিয়ে নতুন কর্মসমিতি গঠন করে ঋতব্রত শিবির। সেই নথিপত্রই এদিন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়। ঋতব্রতর দাবি:
- দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রী ও জেলা পরিষদের সদস্যরা তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন।
- জোড়াফুল প্রতীক বা দল দখলের দাবি করার প্রয়োজন নেই, কারণ তাঁরাই ‘আসল তৃণমূল’।
- খুব শীঘ্রই নির্বাচন কমিশন থেকে ডাক পাবেন বলে আশাবাদী তাঁরা।
উল্লেখ্য, নিউটাউনের বৈঠকে মমতা-অভিষেককে সরিয়ে নতুন কর্মসমিতি গঠনের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে সংকট ঘনীভূত হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী নেয়, সেই দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
