‘তৃণমূল এখন প্রাইভেট লিমিটেড কো ম্পা নি’, একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে ঋতব্রতরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
‘আসল তৃণমূল’ আমরাই, তাই কোনো কিছু দাবি করতে নয়, বরং পরিস্থিতি জানাতেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছি। বৃহস্পতিবার কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকের পর এভাবেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
‘পারিবারিক সম্পত্তি’র বিরুদ্ধে লড়াই: দল নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে ঋতব্রত বলেন, “তৃণমূল দলটা যেভাবে একজন ‘চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট’-এর দ্বারা হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছিল এবং একটা প্রাইভেট লিমিটেড কো ম্পা নিতে পরিণত হয়েছিল, আমরা সেই একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধেই লড়ছি।” নাম না করে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও পরিবারতন্ত্রকে নিশানা করে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলে এখন ‘আমি’ নয়, বরং ‘আমরা’র গুরুত্ব বেশি। এই লড়াই ব্যক্তিপূজার বিরুদ্ধে, সমষ্টির লড়াই।
কী কী দাবি ঋতব্রতর?
- সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি: ঋতব্রতর দাবি, দলের অধিকাংশ বিধায়ক, পুরসভার কাউন্সিলর, জেলা পরিষদের সদস্য এবং সভাপতিরা তাঁদের সঙ্গেই আছেন। দলের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাঁদের পক্ষেই।
- দলের চেয়ারম্যান: তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁদের দলের চেয়ারম্যান এখন অরূপ রায়।
- প্রবীণ নেতাদের সমর্থন: অরূপ রায় এবং জাভেদ আহমেদ খানের মতো দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য থেকে শুরু করে আখরুজ্জামান, গোলাম আহমেদ রব্বানী ও স্নেহাশিস চক্রবর্তীদের মতো নেতারা তাঁদের এই নতুন ধারার লড়াইয়ে শামিল হয়েছেন।
- দুর্নীতির বিরুদ্ধে বার্তা: বালির সিন্ডিকেট, কয়লা, ডলোমাইট ও গোরু পাচারের মতো দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি বলেন, বাংলার মানুষ পরিবারতন্ত্র বা দুর্নীতিকে সমর্থন করে না। এসবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
কমিশনের ইতিবাচক আশ্বাস: গত ২২ জুন দলের বিশেষ প্রতিনিধি অধিবেশন সম্পন্ন হওয়ার পর ২৩ তারিখ তাঁরা কমিশনের সঙ্গে দেখা করার আবেদন জানিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সেই বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে বলে দাবি ঋতব্রতর। তাঁর কথায়, “কমিশন আমাদের সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছে।”
আদালতের লড়াই প্রসঙ্গে এখনই মুখ খুলতে না চাইলেও, নির্বাচন কমিশনের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন, তৃণমূলের অন্দরের এই গৃহযুদ্ধ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
