জ্ঞানবাপী-মথুরা-শম্ভল বিবাদ মেটাতে সুপ্রিম কোর্টের ‘সমাধান’ উদ্যোগ, বসছে বিশেষ লোক আদালত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরপ্রদেশের বিতর্কিত ধর্মীয় স্থান সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিবাদ মেটাতে নজিরবিহীন উদ্যোগ নিল সুপ্রিম কোর্ট। বারাণসীর জ্ঞানবাপী মসজিদ, মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি-শাহী ঈদগাহ এবং শম্ভলের শাহী জামা মসজিদ নিয়ে চলা মামলাগুলির শান্তিপূর্ণ ও পারস্পরিক সমঝোতার লক্ষ্যে শীর্ষ আদালত সেগুলিকে বিশেষ লোক আদালতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
‘সমাধান সমারোহ’-এর মাধ্যমে মিমাংসার চেষ্টা এই বিশেষ লোক আদালতের নামকরণ করা হয়েছে ‘সমাধান’। সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে আগামী ২০২৬ সালের ২১, ২২ এবং ২৩ আগস্ট এই বিশেষ অধিবেশন বসবে। উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার আহ্বান জানিয়ে ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠানো হয়েছে। গত ৫ জুন সুপ্রিম কোর্ট কোঅর্ডিনেশন কমিটির নির্দেশে এই মামলাগুলিকে লোক আদালতে নিষ্পত্তির জন্য ‘উপযুক্ত’ বলে চিহ্নিত করা হয়।
ইতিমধ্যে, ৫ জুলাই মথুরায় একটি ‘প্রি-লোক আদালত’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে হিন্দু পক্ষের আবেদনকারীরা উপস্থিত থাকলেও, মুসলিম পক্ষের অনুপস্থিতি এই প্রক্রিয়াকে কিছুটা ধীরগতি করেছে। ফলে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।
বিতর্কের মূলে কী রয়েছে? হিন্দু আবেদনকারীদের মূল দাবি হলো, উত্তরপ্রদেশের এই ঐতিহাসিক মসজিদগুলি প্রাচীন হিন্দু মন্দির ধ্বংস করে নির্মাণ করা হয়েছে। মামলাগুলির সংক্ষিপ্ত পরিচয় নিচে দেওয়া হলো:
- জ্ঞানবাপী মসজিদ: হিন্দু পক্ষের দাবি, ১৬ শতকে মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব মূল কাশী বিশ্বনাথ মন্দির ভেঙে এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন।
- মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি: ১৩.৩৭ একরের এই কমপ্লেক্সটি নিয়ে বিবাদ। আবেদনকারীদের মতে, শাহী ঈদগাহ মসজিদটি সেই গর্ভগৃহের উপর অবস্থিত, যেখানে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল।
- শম্ভলের শাহী জামা মসজিদ: ২০২৪ সালে দায়ের করা আবেদন অনুযায়ী, ১৫২৬ সালে নির্মিত এই মসজিদটি একটি প্রাচীন ‘হরিহর মন্দির’-এর কাঠামোর ওপর তৈরি বলে দাবি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের এই প্রয়াস বিচারবিভাগীয় লড়াইয়ের বাইরে বেরিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই সংবেদনশীল সমস্যার সমাধান করতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
