‘বিগত সরকার এক চোখ বন্ধ রাখত’, তারকেশ্বর নিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু অধিকারী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তারকেশ্বর: তারকেশ্বরকে আন্তর্জাতিক মানের তীর্থক্ষেত্রে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল বর্তমান সরকার। শ্রাবণী মেলাকে জাতীয় মেলার মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি, তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে একগুচ্ছ নজিরবিহীন ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তোপ: তারকেশ্বর ধাম নিয়ে আগের সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, “বিগত সরকার এক চোখ বন্ধ করে রাখত। তারা শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করত।” তাঁর মতে, ধর্মীয় ঐতিহ্যের রক্ষণাবেক্ষণ করা সরকারের দায়িত্ব, যা আগে অবহেলিত ছিল। তিনি স্পষ্ট জানান, বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেখানো পথে হেঁটে ভারতের প্রাচীন সংস্কৃতি ও ধর্মকে মর্যাদা দিয়ে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ: এ বছর জলযাত্রীদের সুবিধার্থে রাজ্য সরকার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী:
- সেবাকেন্দ্র: শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর সরকারি সেবাকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে, যেখানে জল ও ওআরএস-এর ব্যবস্থা থাকবে।
- আকাশ থেকে পুষ্পবৃষ্টি: আবহাওয়া অনুকূল থাকলে প্রতি সোমবার জলযাত্রীদের ওপর আকাশ থেকে কপ্টার দিয়ে পুষ্পবৃষ্টি করা হবে।
- উন্নয়ন পর্ষদ: তারকেশ্বর ডেভেলপমেন্ট অথরিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত জেলাশাসককে।
হাজার কোটির ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’: শুধুমাত্র তারকেশ্বর নয়, গোটা রাজ্যজুড়ে ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর জন্য ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই সার্কিটের অন্তর্ভুক্ত থাকবে কিরীটেশ্বরী, জল্পেশ, মদনমোহন মন্দির, তারাপীঠ, দক্ষিণেশ্বর ও কালীঘাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, অযোধ্যা বা কাশী বিশ্বনাথের আদলেই তারকেশ্বরকে সাজিয়ে তোলা হবে, যাতে আগামী দিনে এখানে বিদেশি পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। তারকেশ্বরের ঐতিহ্যের গরিমা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
