ভক্তরা পান না এক ফোঁটাও! পুরীর রথযাত্রায় কেন ভেঙে ফেলা হয় প্রসাদের কলস? – এবেলা

ভক্তরা পান না এক ফোঁটাও! পুরীর রথযাত্রায় কেন ভেঙে ফেলা হয় প্রসাদের কলস? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পুরীর রথযাত্রা মানেই লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম আর আবেগ। কিন্তু এই উৎসবের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক রোমহর্ষক আধ্যাত্মিক রহস্য, যা হয়তো অনেকেরই অজানা। রথযাত্রার এমনই এক বিশেষ আচার হলো ‘অধরপনা’, যেখানে মহাপ্রভুর প্রসাদের কলস ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেলা হয়! কিন্তু কেন?

কী এই ‘অধরপনা’? রথযাত্রার শেষ পর্বে ছানা, দুধ, চিনি, কলা ও নানা সুগন্ধি মশলা দিয়ে এক বিশেষ পানীয় বা শরবত তৈরি করা হয়। তিনটি বিশাল মাটির পাত্রে (যাকে লাঠিয়া বলা হয়) এই শরবত ভরে রথের ওপর দেবতাদের ঠোঁটের (অধর) খুব কাছে রাখা হয়। এরপরই ঘটে সেই অবাক করা ঘটনা। শাস্ত্রীয় রীতি মেনে, দেবতার ঠোঁট স্পর্শ করার পর সেই প্রসাদের পাত্রগুলো রথের ওপরই ভেঙে ফেলা হয়।

ভক্তরা কেন এই প্রসাদ পান না? পুরীর জগন্নাথ ধামের এটিই একমাত্র মহাপ্রসাদ, যা সাধারণ ভক্ত বা মন্দিরের সেবাইতরা এক ফোঁটাও গ্রহণ করতে পারেন না। লোককথা অনুযায়ী, এই প্রসাদ জীবিত মানুষদের জন্য নয়!

তবে কার জন্য এই আয়োজন? কেন ভাঙা হয় কলস?

  • অতৃপ্ত আত্মাদের তৃষ্ণা নিবারণ: বিশ্বাস করা হয়, রথযাত্রার সময় পুরীতে অগণিত অদৃশ্য শক্তি, পূর্বপুরুষ ও অতৃপ্ত আত্মা ভিড় করে। সৃষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং এই আত্মাদের তৃষ্ণা মেটাতেই মহাপ্রভু নিজে এই প্রসাদ রথেই বিলিয়ে দেন।
  • মোক্ষলাভ: ভগবানের ঠোঁট ছোঁয়া এই প্রসাদ যখন ভেঙে মাটিতে ফেলা হয়, তার আধ্যাত্মিক গুণে মোক্ষবঞ্চিত আত্মারা পরম শান্তি ও তৃপ্তি লাভ করেন।
  • নেতিবাচক শক্তির সন্তুষ্টি: রথের কাঠ এবং চারপাশের ভূমিতে থাকা বিভিন্ন নেতিবাচক শক্তি বা পার্শ্বদেবতাদের তুষ্ট করতেও এই প্রাচীন রীতি পালন করা হয়।

পুরীর এই অদ্ভুত প্রথা বারবার প্রমাণ করে, ঈশ্বরের করুণা কেবল জীবিতদের জন্যই নয়, বরং মহাবিশ্বের প্রতিটি দৃশ্য ও অদৃশ্য অস্তিত্বের জন্যই সমানভাবে বরাদ্দ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *