জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষমতা হারালেন জনপ্রতিনিধিরা, ১৯৯৭ সাল থেকে শুরু হচ্ছে পুনর্যাচাই – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা, ২৪ জুলাই: ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র (বার্থ ও ডেথ সার্টিফিকেট) ইস্যু করার ক্ষমতা কেড়ে নিল রাজ্য সরকার। এখন থেকে এই শংসাপত্র দেওয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে থাকবে সরকারি আধিকারিকদের হাতে। একইসঙ্গে, ১৯৯৭ সাল থেকে পঞ্চায়েত এবং ২০০০ সাল থেকে পুরসভাগুলির মাধ্যমে ইস্যু হওয়া সমস্ত শংসাপত্র পুনর্যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নবান্নে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এই কঠোর পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব, স্বাস্থ্যসচিব, তথ্য ও সংস্কৃতি সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজিপি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার।
মুখ্যসচিব জানান, আধার, পাসপোর্ট, স্কুল ভর্তি, ভোটার তালিকা, সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন এবং নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে জন্ম শংসাপত্রের গুরুত্ব সর্বাধিক। সম্প্রতি এসআইআর (SIR) পর্বের তদন্তে প্রচুর জাল শংসাপত্রের হদিশ মিলেছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, প্রায় ৪৬ হাজার ৯৯৮টি ‘ডিলেড’ সার্টিফিকেটের মধ্যে ২৫ শতাংশ (১১,৩৯০টি) এবং ডিজিটাইজড ১১ লক্ষ ২৪ হাজার সার্টিফিকেটের মধ্যে ১ লক্ষ ৮০ হাজার সার্টিফিকেটই ভুয়ো।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে পঞ্চায়েত প্রধানদের এবং ২০০০ সালে পুরসভার চেয়ারম্যান বা মেয়রদের হাতে এই শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতিনিধিদের একাংশ এই ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। এই পরিস্থিতিতে রাশ টানতে ফের সরকারি আধিকারিকদের ওপরই ভরসা রাখছে রাজ্য প্রশাসন।
জেলাশাসকদের তত্ত্বাবধানে পঞ্চায়েত ও পুরসভা স্তরে কোন আধিকারিক এই দায়িত্ব পালন করবেন, তা শীঘ্রই স্বাস্থ্যদপ্তরের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, গত তিন বছরে অস্বাভাবিক শংসাপত্র বৃদ্ধির হার খতিয়ে দেখে একটি স্বচ্ছ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হচ্ছে। ভুয়ো সার্টিফিকেটধারীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে এবং এই তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও এফআরআরও (FRRO)-র কাছে পাঠিয়ে অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করে ডিপোর্ট করার প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করা হবে।
