রাজ্যে ৯ থেকে ১৭ অগস্ট ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ উৎসব! রাজ্য সরকারের তরফে জারি হলো ১০ দফার বিরাট নির্দেশিকা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
দেশপ্রেমের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে পালিত হতে চলেছে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচি। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৯ অগস্ট থেকে ১৭ অগস্ট পর্যন্ত এই উৎসব চলবে। নাগরিকদের গর্বের সঙ্গে নিজেদের বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের পাঠানো নির্দেশিকা মেনেই রাজ্য এই সার্বিক প্রস্তুতি শুরু করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে ১০ দফা নির্দেশিকা:
এই কর্মসূচিকে সফল করতে রাজ্য প্রশাসনের তরফে বিস্তারিত ১০ দফা নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে:
- র্যালি ও প্রভাত ফেরি: জেলা, মহকুমা, ব্লক ও পুরসভাস্তরে সর্বসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তেরঙ্গা র্যালি ও প্রভাত ফেরির আয়োজন করতে হবে। ফ্ল্যাগ কোড অফ ইন্ডিয়া, ২০২৩ মেনে সকলের হাতে থাকবে জাতীয় পতাকা।
- সাইকেল ও বাইক র্যালি: শিক্ষার্থী, এনসিসি (NCC), এনএসএস (NSS), স্কাউট-গাইড, যুব ক্লাব ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের সহযোগিতায় তেরঙ্গা সাইকেল ও বাইক র্যালি বের করা হবে।
- বিদ্যালয় সাজসজ্জা: স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়াল তেরঙ্গা আর্টওয়ার্ক, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বাণী এবং ‘বন্দে মাতরম’-এর পঙক্তি দিয়ে সাজাতে হবে।
- আলোকসজ্জা ও রঙ্গোলি: সরকারি ভবন, বাস টার্মিনাস, ফেরিঘাট এবং ব্যস্ত বাজার এলাকায় তেরঙ্গা থিমের আলোকসজ্জা এবং গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে তেরঙ্গা রঙ্গোলি বা আলপনা তৈরি করতে হবে।
- দেশাত্মবোধক গান ও অনুষ্ঠান: সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমবেত কণ্ঠে বন্দে মাতরমসহ অন্যান্য দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি স্বাধীনতা আন্দোলন ও জাতীয় সংহতির ওপর সেমিনার, , আঁকা প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
- পতাকা উত্তোলন ও ডিজিটাল প্রচার: প্রতিটি পরিবার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পতাকা বিধি মেনে পতাকা উত্তোলনে উৎসাহিত করা হবে। এ ছাড়া ব্যানার, পোস্টারের পাশাপাশি নাগরিকদের তেরঙ্গার সঙ্গে ছবি তুলে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ পোর্টালে আপলোড করতে এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ডিপি (DP) পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে।
অর্থ ও পতাকা বরাদ্দ:
এই উৎসবকে সফল করতে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক পরিমাণে জাতীয় পতাকা বিতরণ করা হবে। প্রতিটি জেলা এবং কলকাতা পুরসভাকে দেড় লক্ষ করে এবং কালিম্পং জেলার জন্য ২০ হাজার জাতীয় পতাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আর্থিক সাহায্যও ঘোষণা করেছে রাজ্য। এর মধ্যে জেলা পিছু ১ লক্ষ টাকা, মহকুমা পিছু ৫০ হাজার টাকা, ব্লক ও পুরসভাগুলোকে ২০ হাজার টাকা এবং পুরনিগমগুলোকে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
