‘স্বজন হারানোর ক্ষতি পূরণ হয় না, কিন্তু…’ ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বড় প্রতিশ্রুতির কথা শোনালেন শুভেন্দু – এবেলা

‘স্বজন হারানোর ক্ষতি পূরণ হয় না, কিন্তু…’ ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বড় প্রতিশ্রুতির কথা শোনালেন শুভেন্দু – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সমুদ্রে ট্রলার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো মৎস্যজীবী পরিবারগুলির পুনর্বাসন ও সুরক্ষার স্বার্থে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের এক বিশেষ সহায়তা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিহতদের শোকগ্রস্ত পরিবারের হাতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেন তিনি। একই সঙ্গে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির যোগ্য তরুণদের রাজ্য পুলিশের হোমগার্ড, সিভিক ভলান্টিয়ার বা স্থানীয় প্রশাসনে কর্মসংস্থানেরও জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুর ছাড়াও হাওড়া ও নদিয়ার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকি ওড়িশার তিন জন মৃত মৎস্যজীবীর পরিবারকেও রাজ্য সচিবালয়ের মাধ্যমে সমপরিমাণ অর্থ সাহায্য দেওয়া হবে। টাকা দিয়ে স্বজন হারানোর বেদনা মেটানো সম্ভব নয়—এ কথা স্বীকার করে মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

পরিবারগুলির পুনর্বাসনে একাধিক সরকারি প্রকল্পের সুবিধা

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে একাধিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে:

  • অনাথ শিশুদের সাহায্য: ‘মিশন বাৎসল্য’ প্রকল্পের আওতায় অনাথ হওয়া শিশুদের ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতি মাসে ৪,০০০ টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হবে।
  • মহিলাদের আর্থিক সহায়তা: যোগ্য ক্ষতিগ্রস্ত মহিলাদের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আওতায় প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা এবং অন্যান্যদের বিধবা ও বার্ধক্য ভাতার আওতায় আনা হবে।
  • বাসস্থান নিশ্চিতকরণ: গৃহহীন পরিবারগুলিকে অবিলম্বে ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’র নতুন ঘর বরাদ্দ করার জন্য রামনগর-১ ব্লকের বিডিও-কে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপকূলীয় নিরাপত্তায় বিশেষ জোর ও কুইক রেসপন্স টিম

অতীতে উপকূলীয় নিরাপত্তা ও বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থার বেহাল দশার তীব্র সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগে কোস্টাল থানা তৈরি হলেও পর্যাপ্ত বোট বা উদ্ধারকাজে লাগার মতো সরঞ্জাম দেওয়া হয়নি। এই অচলাবস্থা চিরতরে দূর করতে রাজ্য নিজেদের ‘স্টেট ডিসেস্টার রেসপন্স ফোর্স’ (SDRF)-কে নতুনভাবে সাজাচ্ছে।

খেজুরি, হিজলি থেকে উদয়পুর পর্যন্ত বিস্তৃত মোহনা ও উপকূল অঞ্চলে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য দিঘায় ৫০ জনের একটি বিশেষ ‘কুইক রেসপন্স টিম’ মোতায়েন করার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বিষয়ে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রধান সচিব রাজেশ সিনহা এবং ডিজি সঞ্জয় সিংহকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, সমুদ্রে যাওয়া ট্রলার ও মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘সাগরমালা ২’ এবং ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’-র মাধ্যমে জিপিএস, আধুনিক ওয়্যারলেস এবং স্যাটেলাইটভিত্তিক আগাম আবহাওয়া সতর্কবার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। পূর্ববর্তী সরকারকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র থেকে পাওয়া রাজ্য বিপর্যয় তহবিলের হাজার হাজার কোটি টাকা অতীতে অহেতুক ফেলে রাখা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার উপকূলীয় পরিকাঠামো উন্নয়নে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *