‘প্রতি মাসে রিপোর্ট দিতে হবে!’ রাজ্যের সমস্ত বেসরকারি স্কুলের ওপর কড়া নজরদারি চালাতে বড় নির্দেশ শিক্ষা দপ্তরের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চলতি মাসের মাঝামাঝি বিকাশ ভবনের আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে শিক্ষাব্যবস্থায় কড়া নজরদারি ও স্বচ্ছতা আনার ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষাকে কোনোভাবেই পণ্য হতে দেওয়া যাবে না—এই বার্তা দিয়ে রাজ্যের সমস্ত বেসরকারি স্কুলে অডিট ও কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘোষণা মেনেই এবার রাজ্যের সমস্ত বেসরকারি স্কুলের জন্য পূর্ণাঙ্গ মাসিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশিকা জারি করল স্কুল শিক্ষা দপ্তর।
কড়া নজরে স্বীকৃতিহীন স্কুল ও শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত
সূত্রের খবর, ইউডিআইএসই (UDISE) পোর্টাল, বাংলা শিক্ষা পোর্টাল এবং জেলা অফিসের সমস্ত নথি ক্রস-চেক করে বেসরকারি স্কুলগুলির যাবতীয় তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে। এর পরই সরকারি আধিকারিকেরা সরাসরি স্কুল পরিদর্শনে যাবেন। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি করে বেসরকারি স্কুল পরিদর্শন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে সমস্ত স্কুল ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা সরকারি স্বীকৃতি ছাড়াই চলছে, মূলত সেগুলিকে চিহ্নিত করতেই এই অভিযান চালানো হবে।
এমপরিদর্শন অ্যাপে জিও ট্যাগিং ও কড়া পুলিশি পদক্ষেপ
স্কুল পরিদর্শনের সময় কোনো রকম বাধা সৃষ্টি করা হলে স্কুল শিক্ষা দপ্তর কঠোর আইনি পদক্ষেপ করবে বলে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে পুলিশের সাহায্য নেওয়া হতে পারে। পরিদর্শন শেষে সমস্ত তথ্য ‘এমপরিদর্শন অ্যাপে’ (M-Paridorshan App) জিও ট্যাগযুক্ত ছবি-সহ আপলোড করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। চিহ্নিত স্কুলগুলিকে একটি গুগল ফর্মের মাধ্যমে তাদের শংসাপত্র ও স্বীকৃতির প্রমাণ জমা দিতে হবে, যা পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করা হবে।
কী কী খতিয়ে দেখা হবে পরিদর্শনে?
স্বীকৃতিহীন স্কুল, ছাত্র ভর্তির হার শূন্য থাকা বা ইউডিআইএসই পোর্টালে ভুল তথ্য দেওয়া স্কুলগুলিই সরকারের প্রথমসারির টার্গেটে রয়েছে। পরিদর্শনের সময় খতিয়ে দেখা হবে—
- শিক্ষক ও ছাত্রের সঠিক অনুপাত
- স্কুলের সার্বিক পরিকাঠামো ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা
- ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও শৌচাগার ব্যবস্থা
- ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি এবং শিশু সুরক্ষার বন্দোবস্ত
- শিক্ষা বা রাইট টু এডুকেশন (RTE) আইন সঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না
রাজ্যের এই পদক্ষেপে বেসরকারি স্কুলগুলির ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই কড়া হতে চলেছে বলে মনে করছেন শিক্ষা মহলের একাংশ।
