পেলেট গান থেকে একে-ফর্টি সেভেন! ছাত্র আন্দোলন রুখতে কোন পরিস্থিতিতে অস্ত্র তুলে নেয় পুলিশ? জানুন আইনি নিয়ম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
যন্তর মন্তর থেকে শুরু হওয়া সেই আন্দোলনের আগুন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে। NEET প্রশ্নফাঁস কাণ্ড এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাসহ শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের দাবিতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রাস্তায় নেমেছে দেশের জেন জ়ি (Gen Z) প্রজন্ম। দলীয় সীমানা পেরিয়ে এই স্বতঃস্ফূর্ত ‘চলো সংসদ’ আন্দোলনকে বড়সড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরে নিয়ে মাঠে নামে পুলিশ। অভিযোগ, আন্দোলন থামাতে দিল্লির যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের ওপর নির্বিচারে চালানো হয়েছে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান। এমনকি আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পেলেট গান থেকে ছররা ছোঁড়ারও অভিযোগ উঠেছে। শুধু রাজধানী নয়, বিহারের সিওয়ানে প্রতিবাদ মিছিলে AK-47 থেকে গুলি চালানোর মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনাও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—ঠিক কোন পরিস্থিতিতে বলপ্রয়োগ বা অস্ত্র হাতে তুলে নিতে পারে পুলিশ? কী বলছে ভারতীয় আইন?
কখন এবং কীভাবে অস্ত্র হাতে তুলে নেয় পুলিশ?
আইনশৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি হলে বা কোনো প্রতিবাদ আন্দোলন হিংসাত্মক রূপ নিলে তবেই পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে অস্ত্র প্রয়োগ করতে পারে। আন্দোলনকারীদের মৌখিক সতর্কবার্তা, লাঠিচার্জ বা টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে এবং সাধারণ মানুষের জীবনহানি কিংবা সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের আশঙ্কা তৈরি হলে তবেই এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে থানার অস্ত্রাগার বা রিজ়ার্ভ অফিস থেকে বন্দুক ও গুলি বের করার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম ও সুনির্দিষ্ট কিছু ধাপ মেনে চলতে হয়। বিশেষ করে গুলি চালানোর অনুমতি নিতে হয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে। কোনো কারণে ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত না থাকলে ঘটনাস্থলে থাকা সবচেয়ে সিনিয়র পুলিশ অফিসার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার এই নির্দেশ দিতে পারেন।
ম্যাজিস্ট্রেটের অর্ডার ও আইনি প্রক্রিয়া
আইন অনুযায়ী হিংসাত্মক জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিতে পারেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে গেজেটেড মর্যাদার কোনো পুলিশ অফিসার রিজার্ভ অফিস বা থানার অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেন।
অনুমতি পাওয়ার পর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র বা লগ এন্ট্রি করতে হয়:
- জরুরি পরিস্থিতির মূল কারণ কী,
- কত জন পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে,
- কী ধরনের বা কতগুলি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হবে,
- মোট কত সংখ্যক গুলি বরাদ্দ করা হচ্ছে,
- কোন কোন পুলিশ কর্মী বা অফিসারকে অস্ত্রগুলি দেওয়া হচ্ছে।
মালখানা ও অস্ত্রাগারের নিয়ম
মালখানা বা রিজ়ার্ভ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার লগ এন্ট্রি বা ওয়্যারলেস বার্তার ভিত্তিতে অস্ত্রাগার খুলে অস্ত্রের নম্বর, গুলির বোর ও ধরণ বিস্তারিতভাবে রেজিস্টারে নথিভুক্ত করেন। অস্ত্রদাতা ও গ্রহীতা— উভয়ের সই বাধ্যতামূলক। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট অফিসার পুলিশ কর্মীদের গুলি ছোড়ার সঠিক কারণ এবং স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) বুঝিয়ে দেন। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর সমস্ত অস্ত্র ও অব্যবহৃত গুলি পুনরায় অস্ত্রাগারে জমা দিয়ে ইনভেন্ট্রি বুকে তার হিসাব নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক।
