মাতৃত্বকে জয় করে গ্লাসগোয় রূপকথা! ১১ মাসের সন্তানকে সামলে কমনওয়েলথে ব্রোঞ্জ জয় সীমার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
গ্লাসগো: মাতৃত্ব মানেই কি খেলার জগত থেকে বিদায়? একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও সমাজে এমন একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে। তবে সেই চিরাচরিত মিথকে হেলায় উড়িয়ে দিলেন ভারতের ডিসকাস থ্রোয়ার সীমা কলিরমনা। সন্তান জন্মের মাত্র ১১ মাসের মাথায় মাঠে ফিরেছিলেন তিনি। এবার কমনওয়েলথ গেমসের মঞ্চে ৫৮.৬৫ মিটার দূরত্বে ডিসকাস ছুড়ে দেশের জন্য ব্রোঞ্জ পদক ছিনিয়ে আনলেন হরিয়ানার এই অ্যাথলিট।
নাটকীয় মোড়ে পদক নিশ্চিত সীমার পদক জয়ের মুহূর্তটি ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরা। প্রথম প্রচেষ্টায় ফাউল দিয়ে শুরু করলেও দ্বিতীয় থ্রো-তে তিনি ৫৭.৩২ মিটার ছোড়েন। এরপর তৃতীয় প্রচেষ্টায় সেরা পারফর্ম করে ৫৮.৬৫ মিটার দূরত্ব স্পর্শ করেন তিনি। যদিও পরের টানা তিনটি প্রচেষ্টা ফাউল হওয়ায় নিজের ঝুলিতে আর দূরত্ব বাড়াতে পারেননি সীমা। শেষ পর্যন্ত ক্যামেরুনের মোনি নোরা আতিমের চূড়ান্ত থ্রো-এর ওপর ঝুলছিল সীমার ভাগ্য। আতিম ৫৮.৬৫ মিটার অতিক্রম করতে ব্যর্থ হতেই ভারতের ব্রোঞ্জ সুনিশ্চিত হয়।
মাতৃত্ব, গবেষণা ও খেলাধুলার এক অনন্য মেলবন্ধন ২৭ বছর বয়সী সীমার এই লড়াইটা মোটেও সহজ ছিল না। আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলিট হওয়ার পাশাপাশি তিনি ভিওয়ানির চৌধুরী বানসি লাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শারীরশিক্ষায় PhD করছেন। এর মাঝেই কোল আলো করে আসে সন্তান রুদ্র। সন্তানকে সামলে আগের ফিটনেস ফিরে পেতে দিনরাত এক করে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে তাঁকে। এতে সার্বিক সহায়তায় ছিলেন তাঁর স্বামী তথা কোচ, প্রাক্তন জাতীয় স্তরের ডিসকাস থ্রোয়ার রবীন্দর (মনু কলিরমনা)। ২০২৫ সালের ন্যাশনাল গেমসে সোনা জিতে আগেই প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন সীমা, আর গ্লাসগোতে মিলল তার সেরা ফল।
এক নজরে বাকিদের পারফরম্যান্স এই ইভেন্টে ভারতের অপর প্রতিযোগী নিধি রানিও দারুণ লড়াই চালান। তিনি সর্বোচ্চ ৫৭.১০ মিটার থ্রো করে চতুর্থ স্থানে শেষ করেন। অন্যদিকে, ৬১.৬৬ মিটার থ্রো করে স্বর্ণপদক পান জ্যামাইকার সামান্থা হল এবং ৬০.৬৭ মিটার ছুড়ে রৌপ্য পদক জিতে নেন কানাডার জুলিয়া টাঙ্কস।
