গাজায় শান্তি ফেরাতে ট্রাম্পের ‘ঐতিহাসিক’ পদক্ষেপ, হামাস মুক্ত করতে বড় চুক্তি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় শান্তি ফেরাতে এবং হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করতে এক ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তির ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে হামাস মুক্ত গাজা গঠনের দিকে আন্তর্জাতিক সমাজ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। এর ফলে গাজায় একটি নতুন প্যালেস্টাইনি প্রশাসন গঠন সম্ভব হবে এবং ধাপে ধাপে ইজরায়েলি সেনাও সেখান থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেবে।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’-এর মধ্যস্থতায় এই চুক্তি সম্ভব হয়েছে। তিনি লেখেন, “আজ গাজায় হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণে একটি ঐতিহাসিক পথ খুঁজে পাওয়া গেছে। এটি স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার দিকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।”
ট্রাম্পের ট্রানজিশন প্ল্যান ও সেনাপ্রত্যাহার ট্রাম্পের এই বিশেষ পরিকল্পনাটি একাধিক ধাপে বাস্তবায়িত করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী:
- হামাস এবং অন্যান্য গোষ্ঠীর অস্ত্র সমর্পণের পর ইজরায়েলি সেনা ধীরে ধীরে গাজা থেকে সরে আসবে।
- এরপর এলাকাটিতে শান্তি বজায় রাখতে দায়িত্ব নেবে ‘আন্তর্জাতিক স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ এবং এক নতুন প্যালেস্টাইন পুলিশ বাহিনী।
- গঠিত হবে একটি নতুন প্যালেস্টাইন সরকার, যা জনগণের স্বার্থে কাজ করবে। এই বিশাল কূটনৈতিক সাফল্যের পেছনে ভূমিকা রাখার জন্য মিশর, কাতার ও তুরস্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ইজরায়েলের শর্ত ট্রাম্প এই চুক্তিকে সাফল্য হিসেবে দেখলেও, বাস্তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে এখনও সংশয় তৈরি হয়েছে। ইজরায়েলের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, যেকোনো প্রক্রিয়া শুরুর আগে হামাসকে সম্পূর্ণরূপে অস্ত্র ছাড়তে হবে এবং পুরো গাজাকে সশস্ত্র মুক্ত করতে হবে—যা তাদের প্রধান শর্ত।
অন্যদিকে, হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও, মিশরীয় কূটনীতিকদের মতে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে ইজরায়েলের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া ও বোঝাপড়ার ওপর।
মাঠে উল্টো ছবি: রক্তপাত অব্যাহত কূটনৈতিক আলোচনার মাঝেই গাজায় এখনো থামেনি ইজরায়েলি হামলা। প্যালেস্টাইনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, সম্প্রতি হওয়া ইজরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কী এই ‘বোর্ড অব পিস’? ‘বোর্ড অব পিস’ হলো যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার প্রশাসন পরিচালনা, নিরাপত্তা তদারকি ও পুনর্গঠনের জন্য ২০২৬ সালের শুরুতে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
