‘মমতার মদতেই চলত টুলু চক্র!’ নবান্নে বিএমডাব্লিউ-জমি বাজেয়াপ্তের খতিয়ান দিয়ে হুঙ্কার শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মদত ছাড়া টুলু মণ্ডলের মতো চক্র দিনের পর দিন চলতে পারত না— শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এই ভাষাতেই সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাথর খাদান থেকে কোটি কোটি টাকার বেআইনি কারবারের মাথাদের খুঁজে বের করার হুঙ্কার দিয়ে তিনি জানান, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরই অভিযুক্ত টুলু বিদেশে পালিয়ে গিয়েছে এবং তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ টুলুর বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ় করেছে।
নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু জানান, টুলুর আসল নাম মহম্মদ নাজিমুদ্দিন। তদন্তে নেমে পুলিশ নগদ ৫৩ লক্ষ টাকা, ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রূপো এবং ২৩ গ্রাম প্ল্যাটিনামের গয়না বাজেয়াপ্ত করেছে। এ ছাড়া ৮৩টি ট্রাক-সহ মোট ২৪২টি গাড়ি আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে বিএমডাব্লিউ ও অডির মতো বিলাসবহুল গাড়িও রয়েছে। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে ডিসিআর চালান, টাকা গোনার যন্ত্র এবং ২১টি সম্পত্তির নথি। এর মধ্যে ৭টি বাড়ি, একটি ফার্মহাউস, ২টি পেট্রোল পাম্প এবং ৩০০ বিঘা জমির সন্ধান মিলেছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, জেলায় জেলায় ছড়িয়ে থাকা এই ধরনের সমস্ত চক্রের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করা হবে।
রাজ্যের অর্থ পাচারের বিস্ফোরক হিসেব তুলে ধরে শুভেন্দু দাবি করেন, তৃণমূল জমানায় বীরভূমের পাথর খাদান থেকে বছরে সরকারের আয় হতো মাত্র ৬০-৮০ কোটি টাকা। অথচ নতুন সরকার আসার মাত্র এক মাসেই আয় হয়েছে ৮৩ কোটি টাকা। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, আগে প্রতি বছর আনুমানিক ১০০০ কোটি টাকা বেআইনিভাবে অন্য কোথাও পাচার হয়ে যেত। গত ১৫ বছরে রাজ্য সরকারের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
এই ঘটনায় টুলুর হিসাবরক্ষক পিনাকী দে এবং সহকারী হিসাবরক্ষক রাকিবুল ইসলাম-সহ আরও ৫ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শীর্ষ নেতৃত্ব এবং পুলিশ-প্রশাসনের মদত ছাড়া এই বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে ওঠা আসাম্ভব দাবি করে শুভেন্দু সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তোলেন। সরকারের অর্থ কোথায় পাচার হয়েছে, তার শেষ দেখে ছাড়বেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
