‘কন্যাশ্রী’ এখন ‘কন্যারত্ন’: ছাত্রীদের ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য, কীভাবে আবেদন করবেন? – এবেলা

‘কন্যাশ্রী’ এখন ‘কন্যারত্ন’: ছাত্রীদের ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য, কীভাবে আবেদন করবেন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে চালু থাকা দুটি অত্যন্ত জনপ্রিয় সরকারি প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করেছে রাজ্য সরকার। ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘কন্যারত্ন’ এবং স্কুলপড়ুয়াদের সাইকেল দেওয়ার প্রকল্প ‘সবুজ সাথী’-র নতুন নাম হয়েছে ‘সারথী’। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রকল্পের নাম পরিবর্তন হলেও ছাত্রছাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বন্ধ হচ্ছে না; আগের সমস্ত সাহায্যই বহাল থাকবে। আগামী ১৪ অগাস্ট থেকে ‘কন্যাশ্রী দিবস’-এর পরিবর্তে পালিত হবে ‘কন্যারত্ন দিবস’।

প্রকল্পের সুবিধা ও আর্থিক অনুদান

নারীশিক্ষা জোরদার করতে এবং স্কুলছুট কমাতে এই প্রকল্পে মূলত তিনটি ধাপে সহায়তা দেওয়া হয়:

  • প্রথম ধাপ: ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি ছাত্রীদের বার্ষিক ১,০০০ টাকা করে বৃত্তি।
  • দ্বিতীয় ধাপ: ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সি অবিবাহিত ছাত্রীদের এককালীন ২৫,০০০ টাকা আর্থিক সাহায্য।
  • তৃতীয় ধাপ: স্নাতকোত্তর (PG) স্তরে বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের ছাত্রীদের বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা।

আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা

  • বাসস্থান: ছাত্রীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: রাজ্য সরকার স্বীকৃত যেকোনো স্কুল বা কলেজে পাঠরত হতে হবে।
  • পারিবারিক আয়: পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বা তার কম হতে হবে।
    • বিশেষ ছাড়: অনাথ ছাত্রী, ৪০% বা তার বেশি প্রতিবন্ধী এবং জুভেনাইল জাস্টিস হোমে বসবাসকারী ছাত্রীদের ক্ষেত্রে আয়ের এই ঊর্ধ্বসীমা প্রযোজ্য নয়।
  • অন্যান্য: এককালীন ২৫ হাজার টাকা অনুদানের জন্য ছাত্রীর বয়স ১৮–১৯ বছর এবং তাকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে।

কীভাবে আবেদন করবেন?

১. ফর্ম সংগ্রহ: আবেদন প্রক্রিয়াটি মূলত অফলাইনে স্কুলের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হয়। বার্ষিক বৃত্তির জন্য হালকা সবুজ রঙের ফর্ম এবং এককালীন ২৫,০০০ টাকার জন্য হালকা নীল রঙের ফর্ম স্কুল বা কলেজ থেকে বিনামূল্যে সংগ্রহ করা যাবে। ২. ফর্ম পূরণ ও জমা: ফর্মটি সঠিক তথ্যে পূরণ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে জমা দিতে হবে। ৩. রসিদ সংগ্রহ: ফর্ম জমা দেওয়ার পর স্কুল থেকে একটি অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ (Acknowledgement Slip) দেওয়া হবে। এতে থাকা ফর্ম নম্বর দিয়ে পরবর্তীতে অনলাইনে আবেদনের স্ট্যাটাস যাচাই করা যাবে। ৪. টাকা পাওয়ার উপায়: আবেদনের টাকা সরাসরি ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT)-এর মাধ্যমে ছাত্রীর নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আবেদনপত্রের সাথে নিম্নলিখিত নথিগুলোর জেরক্স কপি জমা দিতে হবে:

  • বয়সের প্রমাণ হিসেবে জন্ম শংসাপত্র (Birth Certificate)
  • আধার কার্ড (পরিচয়পত্র হিসেবে)।
  • ছাত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবইয়ের প্রথম পাতা (যেখানে নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড স্পষ্ট থাকবে)।
  • নিজ ও অভিভাবকের স্বাক্ষর করা অবিবাহিত থাকার স্বঘোষণাপত্র (Self-Declaration)
  • উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া আয়ের শংসাপত্র (Income Certificate)
  • নতুন তোলা পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি
  • বিশেষ ছাড়ের জন্য প্রতিবন্ধী শংসাপত্র বা পিতা-মাতার মৃত্যুর শংসাপত্র (যদি প্রযোজ্য হয়)।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *