দিল্লিতে বড় খেলা? সুদীপ-কাকলিদের নিয়ে বৈঠকে শুভেন্দু, পাল্টা ‘ভাঙন’ জল্পনা উসকে দিলেন কুণাল! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি ও কলকাতা: রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে এবার এক নতুন সমীকরণের বার্তা। রাজ্য সরকারের আগের একটি ব্যস্ততার কারণে গত মঙ্গলবার আসতে না পারলেও, এই মঙ্গলবারই দিল্লির বঙ্গভবনে এনসিপিআই (NCPI)-এর সাংসদদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দল ছাড়ার পর তৃণমূল থেকে বের হয়ে যাওয়া ২০ জন এনসিপিআই সাংসদের সঙ্গে এটাই মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক দলীয় ও প্রশাসনিক বৈঠক।
এনসিপিআই-এর সংসদীয় দলনেতা তথা উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো কীভাবে সংসদীয় এলাকাগুলিতে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে উন্নয়নের কাজ ত্বরান্বিত করা যায়।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে যখন তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন ধরে, তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু। তবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, দেব কিংবা ইউসুফ পাঠানের মতো সাংসদেরা এনসিপিআই-তে যোগ দিয়ে এনডিএ (NDA) জোটে সামিল হওয়ার পর, শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁদের সম্মিলিত কোনো বৈঠক হয়নি। যদিও এর মাঝে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদার পৃথকভাবে নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
এনসিপিআই শিবিরে কি ফের ভাঙন? অন্যদিকে, এই মেগা বৈঠকের আবহেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে জোড়াফুল শিবির। বিগত কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন চলছে, এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের এবং জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান নাকি পুনরায় কালীঘাটে (তৃণমূল) ফিরতে আগ্রহী। এই জল্পনায় ঘি ঢেলে প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় সম্প্রতি বলেন, “আমরা তো চাই সবাই নিজের ঘরে ফিরে আসুন।”
সোমবার তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করেছেন, “এনসিপিআই-তে যাওয়া অন্তত ৬ জন সাংসদ এবং একাধিক বিধায়ক প্রতিনিয়ত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।”
একদিকে যখন দিল্লিতে দল মজবুত করতে শুভেন্দু অধিকারী এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক সারছেন, অন্যদিকে কালীঘাটের ‘ঘর ওয়াপসি’র এই দাবি রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
