কলিযুগ শেষের মহাপ্রলয়ের ইঙ্গিত? কুর্নুলের মন্দিরে রহস্যময় নন্দী মূর্তির আকার বৃদ্ধি ঘিরে চাঞ্চল্য – এবেলা

কলিযুগ শেষের মহাপ্রলয়ের ইঙ্গিত? কুর্নুলের মন্দিরে রহস্যময় নন্দী মূর্তির আকার বৃদ্ধি ঘিরে চাঞ্চল্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

হিন্দুপুরাণ অনুযায়ী চার যুগের শেষ যুগ হলো কলিযুগ—যাকে অধর্ম, পাপ ও কপটতার সময় বলে মনে করা হয়। কিন্তু এই কলিযুগ শেষ হয়ে কবে আসবে মহাপ্রলয়? অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলে অবস্থিত উমা মহেশ্বরী মন্দির এবং সেখানে থাকা নন্দীদেবের একটি রহস্যময় মূর্তি ঘিরে এখন তুঙ্গে জল্পনা।

প্রতি ২০ বছরে ১ ইঞ্চি বৃদ্ধি! এই মন্দিরের সবচেয়ে বড় আশ্চর্য হলো—এখানে থাকা নন্দীদেবের পাথরের মূর্তির আকার নাকি দিন দিন বেড়েই চলেছে! স্থানীয় ও ধর্মীয় গবেষকদের দাবি, প্রতি ২০ বছরে এই মূর্তির আকার প্রায় ১ ইঞ্চি করে বৃদ্ধি পায়। একসময় ভক্তরা খুব সহজেই মূর্তিটিকে প্রদক্ষিণ করতে পারতেন, কিন্তু বর্তমানে মূর্তির বিশাল আকারের কারণে মন্দির প্রাঙ্গণও ছোট মনে হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা এই মূর্তি পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, এটি এমন এক বিশেষ ধরনের পাথর দিয়ে তৈরি যা সময়ের সাথে সাথে কিছুটা বিস্তৃত বা ‘ফুলে-ফেঁপে’ ওঠে। তবে ভক্তদের বিশ্বাস, কলিযুগের শেষ দিনে এই নন্দী মূর্তি জীবন্ত হয়ে উঠবে এবং সেদিনই শুরু হবে মহাপ্রলয়।

পুষ্করনী কুণ্ডের মেটেনি জল-রহস্য শুধু মূর্তির আকার বৃদ্ধিই নয়, মন্দির চত্বরের ‘পুষ্করনী কুণ্ড’ ঘিরেও রয়েছে অলৌকিক ঘটনা। বলা হয়, নন্দী মহারাজের মুখ থেকে অবিরাম জল এসে এই কুণ্ডে পড়ে। প্রচণ্ড গ্রীষ্মেও এই জলের প্রবাহ কমে না। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার পরও আজ পর্যন্ত জানা যায়নি এই জলের উৎস ঠিক কোথায়। প্রচলিত রয়েছে, প্রাচীনকালে ঋষি অগস্ত্য এই কুণ্ডে স্নান করেই শিবপুজো ও নন্দী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

কেন আসে না কাক? এই মন্দিরে রয়েছে আরও এক অদ্ভুত বিষয়। মন্দির চত্বরে যেকোনো পাখি দেখা গেলেও একটি কাককেও দেখতে পাওয়া যায় না। জনশ্রুতি রয়েছে, ঋষি অগস্ত্য যখন এখানে তপস্যা করছিলেন, তখন কাকের দল তাঁর ধ্যানে ব্যাঘাত ঘটায়। এতে ক্রুদ্ধ হয়ে ঋষি অভিশাপ দেন যে, এই মন্দির প্রাঙ্গণে কখনোই কোনো কাক প্রবেশ করতে পারবে না।

গুজরাতের মৃদেশ্বর শিবলিঙ্গ ও কলিযুগের গণনা শুধু কুর্নুলের নন্দী মূর্তিই নয়, গুজরাতের মৃদেশ্বর মন্দিরের শিবলিঙ্গটিকেও কলিযুগ সমাপ্তির প্রতীক মানা হয়। এই শিবলিঙ্গটির আকারও নাকি প্রতি বছর একটি ধানের দানার আয়তনে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এখান থেকেও অনবরত জলধারা প্রবাহিত হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, যেদিন এই শিবলিঙ্গ বেড়ে ৮০ ফুট স্পর্শ করবে, সেদিনই কলিযুগের চূড়ান্ত বিনাশ ঘটবে। তবে এই গতিতে ৮০ ফুট হতে আরও লক্ষ লক্ষ বছর সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *