‘বাবার চিতাভস্ম সসম্মানে ভারতে আসুক’, নেতাজিকন্যার আবেদনে কেন্দ্রের মতামত জানতে চায় সুপ্রিম কোর্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
টোকিওর ঐতিহ্যবাহী রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত মহানায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর চিতাভস্ম ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবি বহু পুরোনো। এবার সেই চিতাভস্ম দেশে ফেরাতে সরাসরি আইনি লড়াইয়ে নামলেন নেতাজির কন্যা অনিতা বোস ফাফ। তাঁর দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে কেন্দ্র সরকারের বক্তব্য ও অবস্থান জানতে চেয়ে নোটিস জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টে কী ঘটল? প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চে এই হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানি হয়। আদালতে অনিতা বোসের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তাঁর যুক্তিশৃঙ্খল শোনার পর দেশের শীর্ষ আদালত মোদী সরকারের কাছে জবাব তলব করে নোটিস পাঠায়।
নেতাজিকন্যার স্পষ্ট দাবি: নেতাজির অন্তর্ধান ও মৃত্যু ঘিরে বহু রহস্য ও নানা মতবাদ থাকলেও, কন্যা অনিতা বোসের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। তিনি বিশ্বাস করেন, জাপানের রেনকোজি মন্দিরে রাখা দেহাবশেষ তাঁর বাবারই। তাই তাঁর দাবি— দ্রুত সেই চিতাভস্ম সসম্মানে স্বাধীন ভারতের মাটিতে ফিরিয়ে এনে মর্যাদাপূর্ণ শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হোক।
নেতাজির অন্তর্ধান ও বিতর্কিত ইতিহাস: নথি অনুযায়ী, ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইওয়ানের তাইপেইয়ে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয় এবং পরে তাঁর চিতাভস্ম রাখা হয় রেনকোজি মন্দিরে। ভারত সরকারও দীর্ঘদিন এই তত্ত্বকেই ধরে এসেছে।
তবে এই রহস্যের কিনারা করতে গঠিত শাহনওয়াজ কমিটি ও খোসলা কমিশন বিমান দুর্ঘটনার তত্ত্ব মেনে নিলেও, পরবর্তী সময়ে গঠিত মুখার্জি কমিশন তা খারিজ করে দেয় (যদিও কেন্দ্র মুখার্জি কমিশনের রিপোর্ট গ্রহণ করেনি)। চিতাভস্মটি সত্যিই নেতাজির কি না, তা নিশ্চিত করতে অতীতে ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার দাবিও উঠেছিল।
বর্তমানে নেতাজিকন্যার এই আইনি পদক্ষেপ দেশনায়কের শেষকৃত্য ও অন্তর্ধান রহস্যকে ঘিরে দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্টে মোদী সরকার এই বিষয়ে ঠিক কী জবাব দেয়।
