২০২৭-এর ভোটের আগেই ধামাকা: মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ২০,০০০ টাকা! যোগী সরকারের মেগা প্ল্যান? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এখন থেকেই রাজনৈতিক ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে শাসকদল। বিশেষ করে নারী ভোটারদের টানতে এবার এক মাস্টারস্ট্রোক দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার। রাজ্য রাজনীতি সূত্রে খবর, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এবং রাজনৈতিক সুবিধা সুনিশ্চিত করতে একটি বিশাল আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের প্রায় ৫ কোটি ৬৭ লক্ষ নারী ভোটার উপকৃত হবেন, যা মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক।
💰 ৫০,০০০ টাকার প্যাকেজ ও কিস্তির হিসেব
প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য নারীদের মোট ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত সাহায্য দেওয়া হতে পারে। তবে এই অর্থ এককালীন না দিয়ে ৩-৪টি কিস্তিতে দেওয়া হবে:
- প্রথম কিস্তি: নির্বাচন ঘোষণার আগেই অ্যাকাউন্টে পাঠানো হতে পারে প্রায় ২০,০০০ টাকা।
- পরবর্তী কিস্তি: বাকি ৩০,০০০ টাকা ১০,০০০ টাকা করে তিনটি পৃথক কিস্তিতে দেওয়া হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগেই প্রথম কিস্তি দিয়ে এবং বাকি টাকা পরের মেয়াদের জন্য তুলে রেখে মূলত সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখারই একটি প্রচ্ছন্ন বার্তা দেওয়া হচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবার, বিধবা, এবং দলিত-আদিবাসী সম্প্রদায়ের নারীরা এই প্রকল্পে অগ্রাধিকার পাবেন।
🎯 ‘বিহার মডেল’ ও লোকসভার ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা
সম্প্রতি বিহার নির্বাচনে মহিলাদের কেন্দ্র করে যে আর্থিক সহায়তা মডেল সফল হয়েছিল, উত্তরপ্রদেশও সেই পথেই হাঁটতে চাইছে। বর্তমানে ইউপি-র গ্রামীণ জীবিকা মিশনের অধীনে প্রায় ১ কোটি মহিলা ও ৯ লক্ষের বেশি স্বনির্ভর গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। এই সুবিশাল নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়েই টাকা পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া এবং সমাজবাদী পার্টির ‘পিডিএ’ (অনগ্রসর, দলিত ও সংখ্যালঘু) সমীকরণের বিপরীতে এটি বিজেপির একটি বড় চাল। দল মনে করে, নারীদের সরাসরি অর্থ সাহায্য পরিবারের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে।
⚠️ ৫০,০০০ কোটি টাকার বাজেট চ্যালেঞ্জ
প্রকল্পটি শুনতে আকর্ষণীয় হলেও এর বাস্তবায়নে বিরাট আর্থিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রায় ১ কোটি মহিলার কাছে এই সুবিধা পৌঁছাতে প্রয়োজন এককালীন ৫০,০০০ কোটি টাকার মেগা ফান্ড। রাজ্য বাজেটের বর্তমান ঘাটতি সামলে কীভাবে এই বিপুল অর্থের সংস্থান হবে, তা নিয়ে সরকারের অন্দরে জোর সমীক্ষা চলছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৭-এর মহারণের আগে এই মেগা প্রকল্প উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে বড় ‘গেমচেঞ্জার’ হতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
