২০৫০-এ দেশে বয়স্ক ৩৫ কোটি! বিপাকে পরিবার, প্রস্তুত নয় স্বাস্থ্য পরিষেবাও – এবেলা

২০৫০-এ দেশে বয়স্ক ৩৫ কোটি! বিপাকে পরিবার, প্রস্তুত নয় স্বাস্থ্য পরিষেবাও – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উন্নত দেশগুলো অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করার পর বয়স্ক জনগোষ্ঠীর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে ছবিটা বেশ উদ্বেগের। ‘ধনী’ বা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার আগেই দ্রুত বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে দেশে। ‘ট্রান্সফর্ম রুরাল ইন্ডিয়া’ (TRI)-র সাম্প্রতিক শ্বেতপত্র ‘ইন্ডিয়া রুরাল কোলোকুইয়াম’-এ উঠে এসেছে এই মারাত্মক তথ্য।

📊 সমীক্ষার মূল আশঙ্কাজনক তথ্যসমূহ:

  • বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি: ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৩৪ কোটি ৭০ লাখে (প্রতি ৫ জন ভারতীয়র মধ্যে ১ জন)।
  • গ্রামে বড় সংকট: ২০৫০ সালে প্রতি ১০ জন বয়স্ক মানুষের মধ্যে ৭ জনই বাস করবেন গ্রামাঞ্চলে।
  • সহায়তার হাত সংকুচিত: ২০০১ সালে ১ জন বয়স্ক মানুষের দেখভালের জন্য কর্মক্ষম ব্যক্তি ছিলেন ৮.৪ জন, যা ২০২৬ সালের মধ্যে কমে দাঁড়াবে মাত্র ৫.২ জনে

⚠️ কেন বাড়ছে পরিবার ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ?

১. পারিবারিক কাঠামো বদল: ছোট পরিবার, তরুণ প্রজন্মের কাজের সূত্রে বাইরে চলে যাওয়া এবং গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রথাগত পরিবার-কেন্দ্রিক পরিচর্যা ভেঙে পড়ছে। তবুও বর্তমানে প্রায় ৯৪% বয়স্কের দেখভাল ঘরেই পরিবারকে করতে হয়। ২. নারীদের ওপর চরম বোঝা: অবৈতনিক সেবা বা পরিবারের দেখভালে নারীরা দিনে গড়ে ৩০৫ মিনিট ব্যয় করেন, যেখানে পুরুষরা দেন মাত্র ৫৬ মিনিট। এতে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ কমছে। তার ওপর চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন এই কাজের চাপ আরও বাড়াচ্ছ। ৩. স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা: দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ঘটছে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো অসংক্রামক ব্যাধিতে। কিন্তু ভারতের বর্তমান স্বাস্থ্য কাঠামো মূলত প্রসব বা হঠাৎ অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য তৈরি, দীর্ঘস্থায়ী বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা সামলানোর জন্য নয়।

💡 সমাধানের পথ: ‘নেবারহুড অফ কেয়ার’ ও নতুন অর্থনীতির সুযোগ

এই সংকট এড়াতে নতুন পরিকাঠামো না বানিয়ে বর্তমান কাঠামোকেই কাজে লাগানোর প্রস্তাব দিয়েছে ‘ট্রান্সফর্ম রুরাল ইন্ডিয়া’।

  • ‘নেবারহুড অফ কেয়ার’ মডেল: গ্রাম পঞ্চায়েত, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরকে একসাথে এনে প্রতিটি পরিবারের হাঁটাপথের দূরত্বের মধ্যে একটি সমন্বিত সেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
  • ‘কেয়ার ইকোনমি’ বা সেবা অর্থনীতি: দেশের জিডিপির (GDP) মাত্র ২ শতাংশ ‘কেয়ার ইকোনমি’-তে বিনিয়োগ করা হলে প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে, যার বড় সুবিধা পাবেন গ্রামীণ নারীরা।

‘ট্রান্সফর্ম রুরাল ইন্ডিয়া’-র প্র্যাকটিস ডিরেক্টর শ্যামল সাঁত্রা জানান, “মানুষের গড় আয়ু বাড়াতে ভারত সফল হলেও, এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো তারা যেন সুস্থভাবে বাঁচতে পারেন। এর জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাথে নিয়ে একটি যৌথ সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।”

Admin
  • Admin

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *