তারাপীঠে হোটেলের আগুনে ছাই ৯ তাজা প্রাণ: বাজেনি ফায়ার অ্যালার্ম, বন্ধ জরুরি পথ নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
তারাপীঠ: শ্রাবণের শেষ সোমবারের ভোরে পুণ্যার্থী ও পর্যটকে ঠাসা তারাপীঠে ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তারাপীঠ থানা ও মন্দিরের কাছেই অবস্থিত ‘বিদেশিনী’ নামে একটি চারতলা হোটেলে ভোরে ভয়াবহ আগুন লেগে প্রাণ হারালেন অন্তত ৯ জন। নিহতদের মধ্যে আলিপুরদুয়ারের কমল রায়, অমিত পাল ও সুবীর সাহা এবং মেঘালয়ের ৫ জন বাসিন্দা রয়েছেন। আগুনে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্তত ৬ জন।
কীভাবে লাগল আগুন? প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, শর্ট সার্কিটের ফলেই এই আগুন লাগে। প্রথমে হোটেলের একতলার রিসেপশনে আগুন ধরে যায় এবং দ্রুত ফাইবারের ফলস সিলিংয়ের মাধ্যমে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারতলা পর্যন্ত সমগ্র ভবন। ঘরের ভেতরে তখন অধিকাংশ আবাসিকই ঘুমাচ্ছিলেন।
গাফিলতি ও নির্মমতার অভিযোগ: ঘটনার পর থেকেই হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মারাত্মক সব অভিযোগ তুলছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধার পাওয়া বাসিন্দারা।
- ফায়ার অ্যালার্ম নিষ্ক্রিয়: বিশালাকার হোটেলটি আগুনে গ্রাস করলেও কোথাও কোনো ফায়ার অ্যালার্ম বাজেনি।
- জরুরি দরজায় তালা: ধোঁয়ায় দমবন্ধ পরিস্থিতিতে পর্যটকরা যখন ব্যাকুল হয়ে ছুটছিলেন, তখন দেখা যায় ফায়ার এগজ়িট বা জরুরি বহির্গমন গেটে তালা ঝুলছে!
- প্রাণরক্ষায় মরণপণ চেষ্টা: জীবন বাঁচাতে কেউ জানলার কাচ ভেঙে পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন, কেউ ব্যালকনি বা কার্নিশে আশ্রয় নেন, আবার কেউ গাছের ডাল ধরে নিচে নেমে আসেন। এমনকি এক ব্যক্তি তাঁর পরিবারকে বাঁচাতে বাথরুমে ঢুকে শাওয়ার চালিয়ে রেখে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। উদ্ধারকাজ চলাকালীন সন্তানকে বুকে জড়িয়ে থাকা এক বাবার নিথর দেহও উদ্ধার করা হয়।
তবে হোটেল মালিকের ছেলে কল্যাণ পালের দাবি, পেছনে জরুরি সিঁড়ি থাকলেও পর্যটকরা না জানার কারণে সামনের দিক দিয়ে বেরোতে গিয়ে বিপদে পড়েন।
প্রশাসন ও উদ্ধারকাজ: ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এসে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ২২ জনকে উদ্ধার করা হলেও ১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তদন্তে নেমেছে ৯ সদস্যের বিশেষ টিম এবং দুর্গাপুর থেকে এসেছে ফরেন্সিক দল।
শোকপ্রকাশ ও ক্ষতিপূরণ ঘোষণা:
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই অগ্নিকাণ্ডে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ‘Prime Minister’s National Relief Fund’ থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার কথা জানানো হয়েছে।
- রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ: দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ভিডিও কলে এলাকা দেখান। রাজ্য সরকারের তরফে মৃতদের পরিবারপিছু ৯ লক্ষ টাকা (মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লক্ষ ও জেলাশাসকের ফান্ড থেকে ৪ লক্ষ) এবং আহতদের ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
- প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এক্সে (টুইটার) শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
অগ্নিকাণ্ডের মতো মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধে তারাপীঠের সমস্ত হোটেল মালিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছেন দমকল প্রতিমন্ত্রী।
