ধুলোয় মিশল নন্দলালের তিন শিখা! যাদবপুরে পদদলিত শিল্প, তবে কি নিভল স্পর্ধার আগুন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনের ঐতিহ্যবাহী উত্তরাধিকার বহন করে আসছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৫৫ সালে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর এর বিশেষ লোগোটি রূপদান করেছিলেন শান্তিনিকেতনের বিশিষ্ট শিল্পী নন্দলাল বসু। পদ্মের পাপড়ির নকশা এবং তিনটি শিখাসম্পন্ন প্রদীপের এই লোগোটি জ্ঞান, আবেগ ও নৈতিক শক্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত, যা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার মাধ্যমে জাতীয় শিল্পসম্পদ হিসেবে স্বীকৃত। শিল্প ও বিজ্ঞানের মেলবন্ধনে তৈরি এই স্বকীয় স্মারকটি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির স্বাধীন চেতনা এবং অনন্য দেশজ ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে।
সম্প্রতি ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির ইউনিয়ন মিটিংকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তাল বিক্ষোভ চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটে থাকা ঐতিহ্যবাহী এই লোগোর রেপ্লিকাটি উপড়ে ফেলে পদদলিত করা হয়। এই ধ্বংসাত্মক ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অরবিন্দ ভবনসহ ঐতিহাসিক নানা প্রাঙ্গণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিরোধ সত্ত্বেও তাণ্ডব থামানো যায়নি। একটি ঐতিহাসিক শিল্পকলার এমন অবমাননা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর আঘাতের ফলে সুধীসমাজ ও শিক্ষামহলে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
