কোটায় ফের আত্মহত্যার ছায়া: ঘরের দরজা বন্ধ করে নিট পরীক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশের অন্যতম প্রধান ‘কোচিং হাব’ রাজস্থানের কোটায় ফের থাবা বসালো আত্মহত্যার কালো ছায়া। পড়াশোনার অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতার বলি হলেন আরও এক নিট (NEET) পরীক্ষার্থী। কুনহাড়ি থানা এলাকার ল্যান্ডমার্ক সিটির একটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ২০ বছর বয়সি ওই ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মৃত ছাত্রীর নাম খুশবু প্যাটেল। তিনি মূলত মধ্যপ্রদেশের ছত্তরপুর জেলার বাসিন্দা ছিলেন। কোটায় ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই সন্ধ্যায়?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে দুই বোন—খুশবু ও খুশি কোটায় একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করছিলেন। খুশবু নিট (NEET) এবং তাঁর ছোট বোন খুশি জেইই (JEE) পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। চলতি বছরের জুলাই মাসেই তাঁরা ল্যান্ডমার্ক সিটির ‘অরোলাইট’ অ্যাপার্টমেন্টে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কোচিং ক্লাস শেষ করে ছোট বোন খুশি ফ্ল্যাটে ফিরে দেখেন ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। বহুবার কড়া নাড়লেও সাড়া মেলেনি। আতঙ্কিত হয়ে সে বন্ধুদের খবর দেয় ও প্রতিবেশীদের ডেকে আনে। পরে চাবিওয়ালা এনে ঘরের দরজা খোলা হলে দেখা যায়, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে খুশবুর দেহ।
হাসপাতালে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন
খবর পেয়ে কুনহাড়ি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে স্থানীয় এমবিএস (MBS) হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি মর্গে রাখা হয়েছে এবং মধ্যপ্রদেশে থাকা পরিবারকে খবর পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ
ঘটনার নেপথ্যে কোনো নির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। কুনহাড়ির স্টেশন হাউস অফিসার (SHO) দেবেশ ভরদ্বাজ জানান, পরিবারের সদস্যরা এসে পৌঁছালে ময়নাতদন্ত শেষ করে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুসাইড নোট পাওয়া গেছে কি না, কিংবা পড়াশোনার অতিরিক্ত মানসিক চাপই এই চরম সিদ্ধান্তের কারণ কি না—সব দিকই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
