অনলাইনে বিকোচ্ছে বিষ! কর্নাটকে ই-কমার্স সংস্থায় কোপ, কিন্তু শিবপুজোয় কেন অনিবার্য এই ধুতুরা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিষাক্ত ফল ও বীজ অনলাইনে বিক্রির অভিযোগে অ্যামাজান, ইনস্টামার্ট এবং বিগবাস্কেটের ফুড লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করল কর্নাটক সরকার। ফুড সেফটি অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্টের তদন্ত রিপোর্টে অনিয়মের প্রমাণ মেলার পরেই এই চরম পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তবে এই বিষাক্ত ধুতুরাই কিন্তু হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র ও মহাদেবের পুজোয় অপরিহার্য। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ভক্তিভরে শিবলিঙ্গে একটি ধুতুরা ফুল ও ফল নিবেদন করলে পুরো এক বছরের একাদশী ব্রত পালনের সমপরিমাণ পুণ্য লাভ হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, অত্যন্ত বিষাক্ত হওয়া সত্ত্বেও এই ফল কেন মহাদেবের এত প্রিয়?
পৌরাণিক রহস্য ও নীলকণ্ঠের গল্প: পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, সমুদ্রমন্থনের সময় উঠে আসা ভয়ংকর ‘হলাহল’ বিষ থেকে সৃষ্টিকে রক্ষা করতে মহাদেব তা পান করেন এবং নিজের কণ্ঠে ধারণ করেন। বিষের তীব্র জ্বালায় তাঁর সারা শরীরের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায় এবং কণ্ঠ নীল হয়ে যায়— যে কারণে তিনি ‘নীলকণ্ঠ’। পুরাণ অনুযায়ী, ধুতুরা ফলের বিশেষ একটি গুণ হলো এটি শরীর ও মনকে চরম শীতল করতে সাহায্য করে। তাই শিবের গায়ের তপ্ত জ্বালা ও উত্তাপ প্রশমিত করতেই তাঁর মাথায় জল ঢালার পাশাপাশি ধুতুরা ফুল ও ফল নিবেদনের প্রথা শুরু হয়। এছাড়া ‘বামন পুরাণ’ অনুযায়ী, দেবাদিদেবের বক্ষ থেকেই প্রথম ধুতুরা গাছের উৎপত্তি হয়েছিল।
দেবাদিদেবের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ধুতুরার মিল: যেমন বনে-জঙ্গলে বা লোকচক্ষুর আড়ালে খুব সহজেই ধুতুরা পাওয়া যায়, তেমনই মহাদেবও অত্যন্ত ভোলাভালা, আশুতোষ ও অহংকারহীন। ধুতুরা যেমন ত্যাগ ও সংযমের প্রতীক, শিবও ঠিক তেমনই সর্বত্যাগী মহাযোগী।
ধুতুরার আরেকটি শিক্ষণীয় দিক হলো— এর সঠিক ব্যবহার ঔষধি গুণ দেয়, কিন্তু ভুল ব্যবহারে মৃত্যু ডেকে আনে। দেবাদিদেবও ঠিক তেমনই; সৎ উদ্দেশ্যে ডাকলে তিনি পরম কল্যাণময়, কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্যে বা অন্যায়ের পথে হাঁটলে তিনি রুদ্র রূপ ধারণ করেন।
কীভাবে নিবেদন করবেন এবং কী ফল মেলে? শিবলিঙ্গে ধুতুরা নিবেদন করার আগে তা পরিষ্কার জল বা গঙ্গাজল দিয়ে ধুয়ে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে সোমবার, শিবরাত্রি বা কোনো পবিত্র তিথিতে ভক্তিভরে ধুতুরা অর্পণ করলে সংসারের নেতিবাচক শক্তি দূর হয়। মানসিক শান্তি, সমৃদ্ধি বজায় থাকে এবং জীবনের নানা জটিল বাধা-বিপত্তি কেটে যায় বলে বিশ্বাস করা হয়।
