গলায় ঝুলছে ৪টি আন্তর্জাতিক সোনা, পেটের দায়ে রাঁচির ফুটপাতে সবজি বিক্রি করছেন দেশের গর্ব অমরদীপ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের তেরঙ্গা উড়িয়ে দেশকে গর্বিত করেছিলেন তিনি। কিন্তু ক্যামেরার আলো নিভে যেতেই বাস্তবের রূঢ় মাটিতে হারিয়ে গেল তাঁর সমস্ত অবদান। দেশের হয়ে থ্রোবলে চারটি আন্তর্জাতিক সোনাজয়ী অ্যাথলিট অমরদীপ কুমারকে এখন রাঁচির আরগোরা চকে ফুটপাতে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে। সংসার চালাতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি কখনও সবজির ডালা সাজিয়ে বসেন, আবার কখনও পেটের তাগিদে স্টিয়ারিং ধরে নেমে পড়েন ক্যাব নিয়ে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়ো ক্লিপে দেখা যায়, অমরদীপ তাঁর অস্থায়ী দোকানের সামনে বসে ক্রেতাদের সবজি মেপে দিচ্ছেন। তবে সাধারণ সবজি বিক্রেতার চেয়ে তাঁর দোকানের ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা—দোকানের পেছনের কাঠের তক্তার ওপর সাজানো রয়েছে দেশের হয়ে জেতা চারটি আন্তর্জাতিক সোনার মেডেল। এই নির্মম বৈপরীত্য চোখে পড়তেই স্তম্ভিত হয়ে যান ক্রীড়াপ্রেমী থেকে শুরু করে সাধারণ নেটিজেনরা।
২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান জুনিয়র থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে প্রথম সোনা এনে দিয়েছিলেন ঝাড়খণ্ডের এই তরুণ। এরপর ২০১৭ সালে কাঠমান্ডুতে ইন্দো-নেপাল টুর্নামেন্ট এবং ২০১৯ সালে বেঙ্গালুরুতে সাউথ এশিয়ান থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতেছিলেন তিনি। চলতি ২০২৬ সালে রাঁচির মাটিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সাউথ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও দেশের হয়ে চতুর্থ স্বর্ণপদকটি জয় করেন অমরদীপ।
কিন্তু এত সাফল্যের পরও ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি। ২০১৬ সাল থেকেই সরকারি চাকরি ও আর্থিক স্বীকৃতির জন্য সরকারের দরজায় কড়া নাড়ছেন অমরদীপ, কিন্তু ফাইল আটকে থেকেছে লালফিতের ফাঁসে। অথচ হরিয়ানা, ছত্তীসগঢ় বা বিহারের মতো রাজ্যের তাঁর সতীর্থ খেলোয়াড়রা বহু আগেই নিজ নিজ রাজ্য সরকারের তরফে স্থায়ী চাকরি ও পুরস্কার পেয়েছেন।
অভাব আর এই না পাওয়ার মধ্যেও খেলা ছাড়েননি অমরদীপ। আগামী অক্টোবরের শেষে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে চলা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। তবে তাঁর এই দারিদ্র্যের করুণ ছবি ছড়িয়ে পড়ায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন; ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এক্সে পোস্ট করে রাজ্য ক্রীড়া দফতরকে দ্রুত অমরদীপের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
