শালবনি জমি দুর্নীতি: সিআইডি জালে আরও ৩ ‘মিডিলম্যান’, কোটি টাকার লেনদেনে মিলল নতুন তথ্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 16, 20267:25 am
মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে একশো একরেরও বেশি জমির অবৈধ হস্তান্তর এবং কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম মামলায় নতুন সাফল্য পেল সিআইডি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে জেরা করে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও ৩ ‘মিডিলম্যান’ বা দালালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতরা হলেন শালবনির জিন্দাল প্রকল্প সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা অমিত ঘোষ, লক্ষ্মীকান্ত ভুঁইয়া এবং নিত্য রায়। মঙ্গলবার তাঁদের মেদিনীপুর জেলা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
যেভাবে চলত জালিয়াতির চক্র: সিআইডি এবং আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই তিনজনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন চলত। শালবনি এলাকার কোনটা সরকারি জমি, কোনটা বনদপ্তর বা শ্মশানের জমি কিংবা ব্যক্তিগত সম্পত্তি—তার খুঁটিনাটি খবর রাখতেন এই মিডিলম্যানরা। প্রয়োজনে বেআইনিভাবে জমির শ্রেণি পরিবর্তনও করা হতো। জমির দরদাম নির্ধারণ করা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের থেকে সংগৃহীত টাকা ধৃত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা ও সুমিত রায়দের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মূল দায়িত্ব ছিল তাঁদের কাঁধেই। ধৃত অমিত ঘোষ কোভিডের সময় শালবনি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের অস্থায়ী কর্মী ছিলেন, পরবর্তীতে তিনি এই বেআইনি জমি সিন্ডিকেটের সঙ্গে পুরোপুরি জড়িয়ে পড়েন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও তদন্তের পরবর্তী ধাপ: মেদিনীপুর জেলা আদালতের সরকারি আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত ৩ জনই বেআইনি লেনদেনের কথা স্বীকার করেছেন। সিআইডি ৮ দিনের হেফাজত চেয়ে আবেদন করলেও আদালত ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর মূল অভিযুক্ত সুমিত রায়ের সাথে এই তিনজনকে পুনরায় আদালতে পেশ করা হবে। সিআইডির অনুমান, ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করলে এই কোটি কোটি টাকার জমি দুর্নীতির নেপথ্যে থাকা আরও বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের নাম সামনে আসবে।
