ধূপ ও মশার কয়েলের ধোঁয়ায় ক্যানসার? জানুন কী বলছেন চিকিৎসকেরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 20, 202610:58 am
সন্ধ্যায় ধূপকাঠির সুবাস কিংবা রাতে মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে কয়েল জ্বালানো—ভারতীয় পরিবারে এ অতি পরিচিত ছবি। ঘর সুবাসিত রাখা কিংবা নিশ্চিন্ত ঘুমের প্রয়োজনে প্রায় প্রতিদিন প্রতিটি ঘরেই এগুলো ব্যবহার করা হয়। তবে এই সুবাস ও শান্তির আড়ালে আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর ঠিক কী প্রভাব পড়ছে, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।
ক্যানসারের ভয় কি সত্যি? সোশ্যাল মিডিয়ায় আজকাল একটা ভয় বেশ ছড়িয়ে পড়েছে—ধূপ বা মশার কয়েলের ধোঁয়া নাকি সরাসরি ক্যানসারের জন্ম দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই আশঙ্কার পুরোটাই কিন্তু সত্যি নয়। ধূপ বা কয়েল জ্বালানো মাত্রই ক্যানসার হয়ে যাবে—এমন কোনো সরাসরি প্রমাণ মেলেনি। ক্যানসার একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া এবং তা নানা উপাদানের ওপর নির্ভর করে। তাই সাধারণ ব্যবহারে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
আসল বিপদ যেখানে লুকিয়ে ক্যানসারের সরাসরি প্রমাণ না থাকলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি কিন্তু পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া যায় না। ধূপ বা কয়েল জ্বলার সময় সুবাসের পাশাপাশি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ধূলিকণা এবং বিষাক্ত গ্যাসীয় উপাদান বাতাসে মিশতে থাকে।
বন্ধ ঘরের ভেতর রাতের পর রাত যখন মশার কয়েল বা ধূপ জ্বলে, তখন বাতাস থেকে ধোঁয়া বের হতে পারে না। ফলে ঘুমের ঘোরেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেই সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও বিষাক্ত গ্যাস ফুসফুসে প্রবেশ করতে থাকে। ক্যানসার না হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এমন ধোঁয়াযুক্ত বাতাসে শ্বাস নেওয়া ফুসফুস ও শ্বাসযন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
সুরক্ষিত থাকার সহজ উপায় অভ্যাস বা প্রয়োজন পুরোপুরি বাদ না দিয়ে সামান্য সচেতন হলেই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব:
- পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল: ঘরে যখনই ধূপ বা কয়েল জ্বালাবেন, দরজা-জানালা খোলা রাখুন যাতে ধোঁয়া জমে না থেকে সহজে বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে।
- ধূপের অতিরিক্ত ব্যবহার কমানো: বন্ধ ঘরে এক সাথে একাধিক ধূপকাঠি পোড়ানো থেকে বিরত থাকুন।
- নিরাপদ বিকল্প বেছে নেওয়া: রাতে শোয়ার ঘরে দরজা-জানালা বন্ধ করে কয়েল না জ্বালিয়ে মশারি কিংবা ইলেকট্রিক মশা তাড়ানোর আধুনিক মাধ্যম (লিকুইড ভ্যাপোরাইজার) ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
