বোমার ধোঁয়া আর ড্রোন হানার মাঝেই পুতিনের জয়জয়কার! রাশিয়ায় ‘ওয়ার ফর্মুলা’-য় বাজিমাত শাসক দলের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 21, 20267:38 am
ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে বড় জয়ের পথে হেঁটেছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’। অন্যদিকে, ভোট চলাকালীনই মস্কো সহ রাশিয়ার একাধিক অঞ্চলে ভয়াবহ ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। সব বাধা ও রক্তপাত এড়িয়ে ভোট গণনার প্রাথমিক ফলাফলে স্পষ্ট, রাশিয়ার মানুষ ফের পুতিনের নীতির উপরেই আস্থা রেখেছেন।
এক নজরে মূল বিষয়গুলি:
- পুতিন ব্রিগেডের দাপট: প্রাথমিক ফলাফলে শাসক দল ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’ একা পেতে চলেছে প্রায় ৫৭.৫ শতাংশ ভোট।
- ভোটের দিনে হামলা: মস্কোর একটি তেল শোধনাগার গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইউক্রেনীয় ড্রোন, হামলায় নির্বাচন আধিকারিক সহ অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
- সাইবার অ্যাটাক সত্ত্বেও ভোটগ্রহণ: নির্বাচন ব্যবস্থার উপর একের পর এক সাইবার হামলা চালানো হলেও প্রায় ৫৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।
যুদ্ধের রণকৌশলেই বাজিমাত পুতিনের ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর এটিই রাশিয়ার প্রথম সংসদীয় নির্বাচন। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পুতিন এই নির্বাচনকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি আমজনতার সমর্থনে পরীক্ষা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। আর সেই চালই শতভাগ সফল। পুতিনের দল ৫৭.৫% ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় পেছনে পড়ে গিয়েছে কমিউনিস্ট পার্টি, এলডিপিআর, নিউ পিপল ও জাস্ট রাশিয়ার মতো বিরোধী দলগুলি।
রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ জানান, এই ফলাফল প্রমাণ করে যে রাশিয়ার মানুষ এখনও দেশ চালানোর জন্য এই দলটির ওপরই ভরসা রাখছে।
ভোটের দিনেই রক্তপাত: মস্কোর শোধনাগারে ধোঁয়া ও আগুন ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করতে ইউক্রেন একের পর এক হামলা চালিয়েছে বলে দাবি মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিনের। মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে হামলায় বিশাল আগুনের শিখা ও ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, ইউক্রেনের ছোড়া ‘ফ্লেমিঙ্গো’ ক্রুজ মিসাইল সহ গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২,০০০টি ড্রোন ও ৮টি মিসাইল আকাশেই ধ্বংস করেছে রুশ সেনা। তবে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন খেরসন ও মস্কো অঞ্চলে হামলায় এক নির্বাচনী আধিকারিক সহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সাইবার হামলা ও বিরোধী প্রার্থীদের দমন-পীড়ন ভোটের অনলাইন সিস্টেমে লাগাতার সাইবার আক্রমণ চালানো হলেও রাশিয়ার সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিশন জানিয়েছে, সার্বিক ভোটদান প্রক্রিয়া স্বাভাবিকই ছিল। অন্যদিকে, বিদেশে নির্বাসিত বিরোধী নেতারা দুপুর ১২টায় ভোটকেন্দ্রে জড়ো হয়ে প্রতীকী প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিলেন।
তবে যুদ্ধের বিরোধিতা করা অধিকাংশ প্রার্থীকেই নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। উদারপন্থী ইয়াবলোকো (Yabloko) পার্টির নেতাদের দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মন্তব্যের জেরে তাঁদের শীর্ষ নেতাদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার ফলে অন্য প্রার্থীরাও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
