‘নো জেন-জি আক্রমণ!’ বঙ্গ বিজেপির মেগা চাল, কমিটিতে আসছে তরুণদের জোয়ার – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: জেলা সভাপতি থেকে শুরু করে যুব ও মহিলা মোর্চা— রাজ্য বিজেপির সংগঠনে এবার আসতে চলেছে বড় পরিবর্তন। পুজোর আগেই সাত জেলাসহ দলের প্রতিটি সংগঠনে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হতে পারে। তবে এবার আর কেবল অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা নয়, দিল্লি থেকে সরাসরি নির্দেশ এসেছে নবীন অর্থাৎ ‘জেন-জি’ (Gen-Z) প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের সামনে আনার।
কেন এই জেন-জি নির্ভরতা? সাম্প্রতিক সময়ে ‘নিট’ প্রশ্নফাঁস ইস্যু থেকে শুরু করে একাধিক সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে দেশের রাজপথ উত্তাল করেছে নতুন প্রজন্ম। আন্দোলনের চাপে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে রদবদলও ঘটেছে। বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব অনুধাবন করেছে, নতুন প্রজন্মের ক্ষোভ কাটানো এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক নিবিড় করাই রাজনীতির মূল চাবিকাঠি। সেই লক্ষ্যেই সম্প্রতি কলকাতায় এসে তরুণদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন।
কড়া নির্দেশ দিল্লির: তরুণদের আক্রমণ নয় দিল্লির বার্তা একেবারেই পরিষ্কার— জেন-জি প্রজন্মের কাউকেই রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করা যাবে না।
- সংগঠনে পদ: যুব মোর্চার পাশাপাশি এবার মহিলা মোর্চা এবং জেলার মূল কমিটিতেও রেকর্ড সংখ্যায় জেন-জি প্রতিনিধিদের রাখা হবে।
- সম্পর্ক স্থাপন: বিরোধী মনোভাবাপন্ন তরুণদের দূরে ঠেলে না দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের কাছে টানার নির্দেশ দিয়েছে হাইকম্যান্ড।
সঙ্ঘ প্রধান ও রাজ্য সভাপতির সুর সম্প্রতি আরএসএস-প্রধান মোহন ভাগবতও তরুণ প্রজন্মের ওপর ভরসা রাখার কথা বলেছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানান, জেন-জি আন্দোলন মানেই দেশবিরোধী নয়, বরং আজকের প্রজন্ম অনেক বেশি সৎ।
একই সুর শোনা গেছে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কণ্ঠেও। রেজিনগরের এক সভায় তিনি ইঙ্গিত দেন, পুরোনো দলগুলির বাইরে গিয়ে নতুন প্রজন্ম নিজে থেকে কোনো বিকল্প গঠন করলেও তা রাজনীতির জন্য অর্থবহ।
সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আবহেই নিজেদের সাংগঠনিক ঢাঁচ বদলে ফেলে ‘মিশন জেন-জি’ সফল করতে মরণপণ লড়াইয়ে নামছে পদ্ম শিবির।
