“সমালোচনা করা সহজ, জুতোয় পা না গলালে যন্ত্রণা বোঝায় না!” ট্রোলারদের একহাত নিলেন কৌশানী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
টলিউডের এখন অন্যতম ‘লিডিং মোস্ট হিরোইন’ তিনি। পরিচালকদের প্রথম পছন্দ থেকে শুরু করে দর্শকের ঘরের মেয়ে হয়ে ওঠা—লম্বা পথ পেরিয়ে আজ নিজের জায়গটা শক্ত করেছেন অভিনেত্রী কৌশানী মুখোপাধ্যায়। পুজোয় শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’ ছবিতে আবারও ‘ঝিমলি’ রূপে বড় পর্দায় ঝড় তুলতে প্রস্তুত তিনি। সম্প্রতি এক খোলামেলা আড্ডায় শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা, ট্রোেলিং, বনি সেনগুপ্তের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বাবাকে নিয়ে নিজের আবেগ ঝেড়ে ফেললেন অভিনেত্রী।
১. ‘ঝিমলি’ হয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে রসায়ন
ছবির দ্বিতীয় পার্ট নিয়ে দর্শকের প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকে। এ প্রসঙ্গে কৌশানী বলেন, প্রথম পার্টে চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তোলার একটা বড় দায়িত্ব ছিল, যা এবার আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ ‘ঝিমলি’ এখন দর্শকের মনে গেঁথে রয়েছে।
চরিত্রের মেকআপের কড়া রুটিন নিয়ে তাঁর মন্তব্য, প্রতি দিন ২ ঘণ্টা ধরে মেকআপ করা এবং তা তুলতে আরও ২ ঘণ্টা লাগতো। গরমে শুট করতে গিয়ে মেকআপ গলে চকলেট-ভ্যানিলা আইসক্রিমের মতো অবস্থা হতো! অন্যদিকে, পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর খুনসুটি ও ঝগড়ার গল্পও কম নয়। কৌশানীর কথায়, হেয়ারস্টাইল নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকে শুটিংয়ের আগেই শিবদার সঙ্গে তাঁর জোর ঝগড়া হয়েছিল—যদিও শেষ পর্যন্ত সেই ছবি ব্লকবাস্টার হিট!
২. সমালোচনা ও ট্রোলিংকে বুড়ো আঙুল
এক সময়ে কমার্মিয়াল ছবির ফর্মুলা এবং অভিনয় নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। সেই দিনগুলোকে স্মরণ করে কৌশানী বলেন, “সমালোচনা করা তো খুব সহজ, কারও জুতোয় পা না গলালে বোঝা যাবে না তার যন্ত্রণা। আমি মূলত কমার্শিয়াল ছবি করেছি, যেখানে তখন পুরুষদের বেশি ফোকাস করা হতো। কিন্তু এখন কনসেপ্ট বদলেছে, আমিও নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পেয়েছি।” তিনি আরও জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আর নেতিবাচক কমেন্ট নিয়ে মাথা ঘামান না।
৩. বনি সেনগুপ্তকে নিয়ে রাখঢাকহীন মন্তব্য
প্রেমিক ও সহকর্মী বনি সেনগুপ্তের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে ওঠা বিভিন্ন গুঞ্জন ও কটাক্ষের কড়া জবাব দিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর সাফ কথা, বনির সাফল্যে তাঁর কখনও ইনসিকিউরিটি হতে পারে না। কৌশানীর স্পষ্ট বক্তব্য—
“আই উইল বি দ্য লাস্ট পার্সন অন দিস আর্থ, যে বনিকে নিয়ে ইনসিকিউর হব। আমি অন্তর থেকে চাই ও টপমোস্ট জায়গায় যাক।”
দুঃসময়ে তাঁরা একে অপরের পাশে পিলার হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলেই আজ তাঁদের বন্ধন আরও শক্ত।
৪. জীবনের সেরা প্রাপ্তি ও পুজোর পরিকল্পনা
নিজের কেরিয়ারের সাফল্যের পাশাপাশি বাবাকে ঘিরে একটি বড় স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছেন কৌশানী। ২০২৪ সালে বাবা-মাকে একটি বাড়ি উপহার দিয়েছেন তিনি। বাবাকে রাজার মতো ওই বাড়িতে ঘুরে বেড়াতে দেখাই তাঁর জীবনের অন্যতম বড় শান্তি ও প্রাপ্তি।
আর পুজোর কটা দিন কীভাবে কাটবে? কৌশানী জানালেন, সপ্তমী পর্যন্ত পুরোদমে ‘বহুরূপী’র প্রচার ও কাজের ব্যস্ততা থাকবে। তার পর থেকে একদম ফোন বন্ধ—বাকি দিনগুলো শুধু পরিবারের সঙ্গে কাটিয়ে নিজের মতো করে উপভোগ করতে চান তিনি।
