পেমেন্ট হয়নি অথচ পকেটে সোনা! অভিনব কায়দায় প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার মহিলা – এবেলা

পেমেন্ট হয়নি অথচ পকেটে সোনা! অভিনব কায়দায় প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার মহিলা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মোবাইল স্ক্রিনে পেমেন্টের ভুয়া সফল (Successful) মেসেজ দেখিয়ে সোনার গয়না হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতের নাম মধুরিমা দাস, বাড়ি কলকাতার লেক থানা এলাকায়। নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, শুধুমাত্র এই একটি জায়গায় নয়, এর আগেও শহর ও শহরতলির একাধিক সোনার দোকানে একই কায়দায় প্রতারণা চালিয়েছেন ওই মহিলা।

একনজরে মূল ঘটনা:

  • অনলাইন পেমেন্টের ভুয়ো মেসেজ দেখিয়ে বহুমূল্য সোনার গয়না হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক মহিলা গ্রেপ্তার।
  • ধৃত মধুরিমার বাড়ি কলকাতার লেক থানা এলাকায়।
  • নরেন্দ্রপুর থানার দাবি, রাজারহাট, খড়দহ, বাদুড়িয়া থেকে শুরু করে কলকাতা সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার সোনার দোকান তাঁর টার্গেট ছিল।

প্রতারণার অভিনব কায়দা:

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত মহিলা প্রথমে বিভিন্ন এলাকার সোনার দোকানগুলি ভালো করে রেইকি করতেন। এর পর সাধারণ ক্রেতার বেশে দোকানে ঢুকে পছন্দ করতেন দামি সব সোনার গয়না। এরপর দাম মেটানোর পালা এলে তিনি অনলাইন লেনদেনের নাটক করতেন। নিজের মোবাইল থেকে দোকানদারকে এমন একটি মেসেজ দেখাতেন, যা দেখতে হুবহু আসল ব্যাঙ্কের পেমেন্ট অ্যালার্টের মতো। সেই ভুয়া মেসেজ দেখে আসল সত্য বুঝতে না পেরে ব্যবসায়ীরা তাঁর হাতে গয়না তুলে দিতেন। পরবর্তীতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চেক করে তাঁরা বুঝতে পারতেন এক টাকাও ঢোকেনি।

যেভাবে ধরা পড়ল জালে:

দিনকয়েক আগে নরেন্দ্রপুর থানার কালীবাজার এলাকার এক সোনার দোকানের মালিক তারক কর্মকার একই কায়দায় প্রতারণার শিকার হন। মহিলার দেখানো মেসেজ দেখে তিনি গয়না দিয়ে দিলেও পরে বুঝতে পারেন অ্যাকাউন্টে টাকা আসেনি। এরপর তিনি নরেন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানান এবং সিসিটিভি ফুটেজ জমা দেন। ব্যবসায়ী ফোনে যোগাযোগ করলে মহিলা উল্টে দাবি করেন, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে এবং শীঘ্রই জমা পড়ে যাবে।

এর কিছুদিন বাদেই চৌহাটি এলাকার অন্য একটি সোনার দোকানে ফের একই কায়দায় গয়না হাতানোর চেষ্টা করেন মধুরিমা। তবে এবার আর শেষরক্ষা হয়নি। দোকানদারের সন্দেহ হওয়ায় তিনি বুদ্ধিমত্তাফিক অভিযুক্তকে কথার জালে আটকে রেখে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে আটক করে এবং পরে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের কাছ থেকে খোয়া যাওয়া বেশ কিছু সোনার গয়নাও উদ্ধার করা হয়েছে।

বড় কোনো চক্রের হাত রয়েছে কি?

তদন্তকারীদের অনুমান, এই প্রতারণা চক্রে মধুরিমা একা কাজ করতেন, নাকি তাঁর পেছনে বড় কোনো গ্যাং সক্রিয় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আরও বেশি সতর্ক থাকার আর্জি জানিয়েছে সোনারপুর উত্তর স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *