‘ভারত ছেড়ে দুবাই চলে যাব!’ রেজিনগরের ফলপ্রকাশের মাঝেই বিস্ফোরক হুমায়ুন কবীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রেজিনগর উপনির্বাচন: ভোট গণনার চূড়ান্ত ফলাফল আসার আগেই রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় করে দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। রেজিনগরে শাসকদলের থেকে বিপুল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পরেই চরম ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। মেজাজ হারিয়ে সরাসরি ভারত ছেড়ে দুবাই চলে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই বিতর্কিত নেতা।
দুবাই পাড়ি ও নতুন লক্ষ্য গণনার চতুর্থ রাউন্ড শেষে শাসকদল ৩৫,৮৯৬ ভোট পেয়ে শক্ত অবস্থানে চলে গেলেও হুমায়ুনের ঝুলিতে আসে মাত্র ১২,৭০৭টি ভোট। বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার খবর মিলতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে হুমায়ুন স্পষ্ট জানান, তাঁর এখন একমাত্র লক্ষ্য বাবরি মসজিদ তৈরি করা এবং অধীর চৌধুরীকে নির্বাচনে পরাজিত করা।
পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ ও গণনাকেন্দ্রে অনুপস্থিতি ভোটের দিন সকাল থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে ভোট লুঠের অভিযোগে সোচ্চার হয়েছিলেন হুমায়ুন, যার জেরে তাঁকে আটকও করা হয়। তবে গণনার দিন তাঁকে কেন্দ্র চত্বরে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উষ্মা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “পুলিশ নিজেই যেখানে ভোট লুঠ করে বেড়াচ্ছে, সেখানে কোন ভরসায় গণনাকেন্দ্রে যাব? আমাকে ভয় পেয়েই আগেভাগে খাঁচায় পুরে রাখা হয়েছিল।”
বর্ণময় রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান? কংগ্রেস থেকে তৃণমূল, মাঝে বিজেপি ঘুরে ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন এবং অবশেষে নিজের নতুন দল গড়ে বিধায়ক হওয়া—হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক জীবন বরাবরই নাটকীয়তায় ভরপুর। তবে চলতি উপনির্বাচনের দিন থেকেই তাঁর গলায় আত্মসমর্পণের সুর। বিধানসভায় না যাওয়া, বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া এবং রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণার পর এবার তিনি সরাসরি দেশ ছাড়ার হুঙ্কার দিলেন। ফলে তাঁর এই রঙিন রাজনৈতিক ক্যারিয়ার কি তবে এখানেই শেষ হতে চলেছে—সেই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে রাজনৈতিক মহলে।
