বকেয়া সম্পত্তি করে ৯৯% পর্যন্ত বিরাট ছাড়! শহরবাসীর জন্য বড় ঘোষণা কলকাতা পুরসভার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতাবাসীদের জন্য এক বিরাট সুখবর। দীর্ঘদিনের বকেয়া সম্পত্তি কর (Property Tax) মেটানোর জন্য বিশেষ ‘ওয়েভার স্কিম’ (Waiver Scheme) চালু করল কলকাতা পুরসভা (KMC)। গত বৃহস্পতিবার কলকাতা পুরসভায় আয়োজিত একটি সাংবাদিক বৈঠকে এই বিশেষ ছাড়ের কথা ঘোষণা করেন পুরসভার প্রশাসক তথা কমিশনার শুভেন্দু অধিকারী। পুরনো বকেয়া কর মিটিয়ে ফেলার এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ।
স্কিমের মেয়াদ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আগামী নভেম্বর মাসে পুজো মিটলেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন। তার ঠিক আগেই শহরবাসীর সুবিধার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। যদিও বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই রাজনৈতিক সুবিধা পেতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরসভা সূত্রে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ ছাড়ের সুযোগ আগামী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত চলবে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনে এই সময়সীমা পরবর্তীতে আরও বাড়ানো হতে পারে।
ছাড়ের পরিমাণ এই স্কিমের আওতায় করদাতারা বিপুল পরিমাণ ছাড়ের সুবিধা পাবেন। জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির ক্ষেত্রে বকেয়া করের ওপর ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় মিলবে। পাশাপাশি, সরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে এই ওয়েভার স্কিমে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রসূন ব্যানার্জি জানিয়েছেন, “শুভেন্দুর মতো লোক পেয়ে আমরা আরও আনন্দিত,” পাশাপাশি তিনি মুখ্যমন্ত্রীরও প্রশংসা করেছেন।
বকেয়া করের পরিসংখ্যান পুরসভার হিসাব (গত সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী) বলছে, বর্তমানে শহরে মোট ৩ লক্ষ ৮৬ হাজার ২৮৮ জন করদাতার সম্পত্তি কর বকেয়া রয়েছে। বকেয়া করের মোট পরিমাণ ৬,৮৫৪ কোটি টাকারও বেশি। এর সঙ্গে জরিমানা হিসেবে ৪০১ কোটি এবং সুদ বাবদ আরও ৩,৩১৪ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। পুরসভার লক্ষ্য হলো, এই স্কিমের মাধ্যমে অন্তত ৭৮৪ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা।
আবেদন পদ্ধতি ও সার্ভার সমস্যা এই ওয়েভার স্কিমের সুবিধা নিতে করদাতারা অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই আবেদন করতে পারবেন। তবে অনেকেই এর আগে অনলাইনে কর জমা দিতে গিয়ে সার্ভার সমস্যার কারণে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। এই প্রসঙ্গে আধিকারিক স্মিতা জানিয়েছেন, সার্ভার সংক্রান্ত পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। যান্ত্রিক ত্রুটি মিটিয়ে সার্ভারের বিষয়ে সবুজ সংকেত না পাওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না।
