ফাঁসির সাজা শুনেই নির্ঘুম রাত, খাবার মুখে তোলেনি মেরঠের নীল ড্রাম হত্যাকাণ্ডের দুই দোষী মুসকান ও সাহিল! – এবেলা

ফাঁসির সাজা শুনেই নির্ঘুম রাত, খাবার মুখে তোলেনি মেরঠের নীল ড্রাম হত্যাকাণ্ডের দুই দোষী মুসকান ও সাহিল! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মেরঠের চাঞ্চল্যকর ‘নীল ড্রাম হত্যাকাণ্ডে’ স্বামী সৌরভ রাজপুতকে নৃশংসভাবে খুন করার অপরাধে বুধবার মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা হয়েছে স্ত্রী মুসকান রস্তোগি ও তার প্রেমিক সাহিল শুক্লার। ফাঁসির আদেশ শোনার পর থেকেই যেন জেলের ঘুপচি ঘরে শুরু হয়েছে তাদের আসল পতন। জেলের কয়েদি হিসেবে তাদের নতুন জীবন শুরু হয়েছে, তবে প্রথম রাত থেকেই নেমে এসেছে চরম আতঙ্ক।

নির্গুম রাত ও অনাহার মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ পাওয়ার পর থেকেই মানসিক অশান্তিতে ছটফট করছে সাহিল ও মুসকান। জেল সূত্রে খবর, ফাঁসির সাজা শোনার পর রাতভর দুজনেই চোখে এক পলকও ঘুম নামাতে পারেনি। আতঙ্কে ও অনুশোচনায় রাতের খাবার ছোঁয়নি তারা। এমনকি পরের দিন সকালেও জেলের খাবার মুখে তোলেনি এই দুই অপরাধী।

নাম মুড়ে এখন নতুন পরিচয় ‘বন্দি নম্বর’ আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের নামের অধ্যায় শেষ হয়ে শুরু হয়েছে নতুন নম্বরভিত্তিক পরিচয়। সাহিল শুক্লা এখন জেলের খাতায় ‘বন্দি নম্বর ৩৯৫/২০২৬’ এবং মুসকান রস্তোগি ‘বন্দি নম্বর ৩৯৬/২০২৬’। কারাগারের নিয়ম মেনে এখন থেকে প্রশাসনিক সমস্ত কার্যক্রমে এই নম্বর দিয়েই তাদের চিহ্নিত করা হবে।

তাদের সাধারণ বন্দিদের থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে। মুসকানের জেলের কুঠরি নম্বর ১২ (বি) এবং সাহিল রয়েছে ১৫ নম্বর কুঠুরিতে। জেলের নিয়ম মেনে তাদের গায়ে উঠেছে কয়েদির বিশেষ পোশাক— সাহিল পেয়েছে সাদা কুর্তা ও পাজামা, আর মুসকান পরেছে সাদা শাড়ি ও ক্রিম রঙের স্যুট।

মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুসকানের দুশ্চিন্তা ফাঁসির সাজা ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও নিষ্পাপ মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছে মুসকান। জেল সূত্রে জানা গেছে, তার মেয়ের দেখভাল ও লালনপালন কীভাবে হবে, সেই কথাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে তার মাথায়। সৌরভ রাজপুত খুনের এই বর্বরোচিত মামলার রায়ের পর এখন উচ্চ আদালতে আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে এই জুটিকে।

যে নৃশংসতা কাঁপিয়ে দিয়েছিল দেশকে ২০২৫ সালের ৩ মার্চ। মার্চেন্ট নেভির অফিসার সৌরভ রাজপুতকে প্রথমে পরিকল্পনা করে খুন করে তার স্ত্রী মুসকান। এরপর প্রেমিক সাহিল শুক্লার সঙ্গে মিলে সৌরভের দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে একটি নীল প্লাস্টিকের ড্রামে ভরা হয়। প্রমাণ লোপাট করতে সেই ড্রামের মধ্যে বালি, জল ও সিমেন্ট গুলে ঢেলে সিল করে দেওয়া হয়েছিল। নিখুঁত ভালোবাসার নাটক করে সৌরভকে খুন করা হলেও, শেষ রক্ষা হয়নি।

প্রেমিক সাহিলকে নিজের করে পেতে হাসিমুখে স্বামীকে ঠান্ডা মাথায় খুন করার এই মর্মান্তিক ঘটনা সেসময় গোটা দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। এখন ফাঁসির দড়ির সামনে দাঁড়িয়ে সেই অপরাধের মাশুল গুনছে মুসকান ও সাহিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *