চিংড়িহাটা উড়ালপুলে বাইক স্কিড কাণ্ড! কোন বিশেষ রঙে সাজল রাস্তা? মুখ খুললেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পুজো উপলক্ষ্যে কলকাতাকে এক নতুন রূপ দিতে শহরের একাধিক উড়ালপুলকে রাঙানো হয়েছে নান্দনিক রঙে। গড়িয়াহাট থেকে চিংড়িহাটা—রাস্তার প্রতিটি কোণেই রামধনুর রঙ নজর কেড়েছে শহরবাসীর। তবে এই সৌন্দর্যায়নের প্রশংসার পাশাপাশি এবার উড়ালপুলের নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে বড় প্রশ্ন। চিংড়িহাটা উড়ালপুলে একাধিক বাইক দুর্ঘটনার পর সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঠিক কী কারণে ঘটছে এই বিপত্তি এবং কোন রঙ ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে খোলসা করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে চিংড়িহাটা উড়ালপুলে বাইক পিছলে যাওয়ার কয়েকটি ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাস্তার রঙের নিরাপত্তা নিয়ে। চালকদের মনে প্রশ্ন জাগছে, এই নতুন রঙের জন্যই কি নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে দুচাকাগুলো, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো কারণ? যদিও দুর্ঘটনার নির্দিষ্ট কারণ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
তবে এই সমস্ত বিতর্কের মাঝেই উড়ালপুলের রঙ সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এই উড়ালপুলগুলিতে কোনো সাধারণ তেলরং ব্যবহার করা হয়নি। বরং বাইকের চাকা যাতে সহজে পিছলে না যায়, সেই কথা মাথায় রেখেই বিশেষ ‘অ্যান্টি-স্কিড’ (Anti-Skid) রঙ ব্যবহার করা হয়েছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “একজন মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলেন, তার ধাক্কায় আরেকজন পড়ে গেলেন। কেন এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পুলিশ ও প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। যে রং ব্যবহার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অ্যান্টি-স্কিড কালার এবং এটি কোনো সাধারণ তেলরং নয়। তবুও কেন বাইক স্কিড করল, সেটা আমি এখনই বলতে পারব না, একমাত্র ইঞ্জিনিয়াররাই এর সঠিক কারণ বলতে পারবেন।”
শুধু চাকা পিছলে যাওয়াই নয়, এই উজ্জ্বল রঙের কারণে বাইকচালকদের চোখে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও জানান, “অনেকে আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন যে ওই রঙের কারণে চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে—এমন কিছু বিষয় আমারও কানে এসেছে, যদিও নিজে দেখার সুযোগ পাইনি। তবে যদি সাধারণ মানুষের কোনো সমস্যা হয়, তবে আমরা অবশ্যই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করব। পুজোর আগে শহরকে সাজানোর এই উদ্যোগ মানুষ দারুণভাবে পছন্দ করেছেন এবং প্রশংসা করেছেন। কিন্তু পুলিশ বা প্রশাসনের যদি মনে হয় এতে সমস্যা হচ্ছে, তবে আমরা অন্য বিকল্পের কথা নিশ্চয়ই ভাবব।”
এদিকে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই প্রযুক্তিগত দিকগুলিও পরীক্ষা করতে শুরু করেছে প্রশাসন। রাতারাতি চিংড়িহাটা উড়ালপুলের প্রতি ১০ মিটার অন্তর রাস্তায় বসানো হয়েছে ফাইবার পিভার ব্লক এবং কমানো হয়েছে রাস্তার মসৃণতা।
উড়ালপুলগুলির এই আকর্ষক সৌন্দর্যায়নের কাজের খরচ কোথা থেকে এল, সেই নিয়েও মুখ খুলেছেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই পুরো প্রকল্পটি সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের অর্থে বা সরকারি তহবিলে করা হয়নি। সম্পূর্ণ কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (CSR) তহবিলের সাহায্যে এই সৌন্দর্যায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
