‘মেয়ের ফাঁসি হলেও আপত্তি নেই!’ নৃশংস ‘নীল ড্রাম’ কাণ্ডে চরম সাজা শোনাল আদালত, পাশে দাঁড়ালেন না নিজের বাবা-মাও – এবেলা

‘মেয়ের ফাঁসি হলেও আপত্তি নেই!’ নৃশংস ‘নীল ড্রাম’ কাণ্ডে চরম সাজা শোনাল আদালত, পাশে দাঁড়ালেন না নিজের বাবা-মাও – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পারিবারিক বিবাদ কিংবা বিচ্ছেদের হাজারো পথ খোলা থাকলেও, সম্পর্কের এমন নির্মম পরিণতি হয়তো আগে দেখেনি কেউ! স্বামীকে খুন করে দেহ টুকরো টুকরো করা, আর প্রমাণ লোপাটে নীল ড্রামে ভরে সিমেন্ট দিয়ে ঢেকে দেওয়ার সেই রোমহর্ষক ঘটনায় অবশেষে এল বহু প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক রায়।

প্রায় দু’বছর আগে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই ‘নীল ড্রাম হত্যা কাণ্ড’-এ প্রধান দোষী সাব্যস্ত স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি এবং তাঁর প্রেমিক সাহিল শুক্লা—উভয়কেই মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসি)-র সাজা শুনিয়েছে উত্তরপ্রদেশের জেলা ও দায়রা আদালত।

মহাভারতের প্রসঙ্গ টেনে বিচারকের কড়া বার্তা

বুধবার আদালতের বিচারক অরবিন্দ কুমার মিশ্র বিচারকক্ষে দাঁড়িয়ে এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় প্রদান করেন। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে জেল থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে হাজির করা হয়েছিল দুই আসামিকে। শুনানির সময় বিচারক মহাভারতের প্রসঙ্গ টেনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক মন্তব্য করে বলেন— “যথাযথ শাস্তি প্রদান করাও এক ধরনের ধর্ম।”

কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত দিনে?

তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের ৪ মার্চ। পেশায় মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতকে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ও পরিকল্পনা করে খুন করে তাঁর স্ত্রী মুসকান এবং তাঁর প্রেমিক সাহিল।

খুনের পর নৃশংসতার সমস্ত সীমা অতিক্রম করা হয়। সৌরভের দেহ টুকরো টুকরো কেটে একটি নীল ড্রামে ভরা হয় এবং দুর্গন্ধ ও প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে ড্রামটি সিমেন্ট দিয়ে সম্পূর্ণ সিল করে দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে পুলিশের নিখুঁত তদন্তে এই হিমশীতল রোমহর্ষক কাণ্ডের পর্দাফাঁস হয় এবং সিমেন্ট ঢাকা সেই নীল ড্রাম থেকেই উদ্ধার হয় সৌরভের দেহাংশ।

“মেয়ের মৃত্যুদণ্ড হলেও আপত্তি নেই” — বাবা-মায়ের নজিরবিহীন পদক্ষেপ

এই মামলার সবচেয়ে চমকপ্রদ ও স্পর্শকাতর দিক হলো আসামির নিজের পরিবারের অবস্থান। মুসকানের বাবা-মা আদালতে একটি লিখিত বয়ান জমা দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন— তাঁদের মেয়ে যে জঘন্য অপরাধ করেছে, তার জন্য আদালত যদি তাকে মৃত্যুদণ্ডও দেয়, তবে তাতে তাঁদের বিন্দুমাত্র আপত্তি থাকবে না। সমাজের অপরাধ দূরীকরণে নিজ সন্তানের বিরুদ্ধে বাবা-মায়ের এমন কঠোর অবস্থান এক নজিরবিহীন নজির গড়েছে।

চোখের জলে ভাসলেন নিহতের মা

রায়ের পর আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে কান্না ধরে রাখতে পারেননি নিহত সৌরভের মা রেণু রাজপুত। তিনি আকুল কণ্ঠে বলেন,

“যাঁরা একসঙ্গে থাকতে চান না, তাঁদের আলাদা হয়ে যাওয়ার পথ তো খোলাই ছিল! কিন্তু তার মানে এই নয় যে কারও সন্তানকে এভাবে নৃশংসভাবে খুন করতে হবে। সৌরভ আজও আমাদের মন জুড়ে আছে, ঘরের প্রতিটি কোণে ওর স্মৃতি জড়িয়ে। এই ধরনের জঘন্য অপরাধের একটাই সাজা হতে পারে— মৃত্যুদণ্ড।”

দুই পক্ষের আইনজীবীর দীর্ঘ সওয়াল-জবাব ও পেশ করা যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করার পর আদালত এই যুগলকে চরম সাজা অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয়। আদালতের এই রায়ে নিহতের পরিবারে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *