উমা কৈলাসে ফিরলেই বন্ধ ইলিশ খাওয়া, জানুন চট্টোপাধ্যায় বাড়ির এক অদ্ভুত পুজোর রীতিনীতি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চার-পাঁচদিনের আনন্দ উৎসব শেষে মা দুর্গা ফিরেছেন কৈলাসে। আর সেই সঙ্গেই সমাপ্তি ঘটল সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজোর। নিয়ম-নিষ্ঠা মেনে আয়োজিত এই পুজোর অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হলো দেবীর নৈবেদ্য ও ভোগ। সুদীপার মতে, তাঁদের বাড়িতে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করেই মূলত ইলিশ খাওয়া হয়। নবমীতে দেবীকে নিবেদন করা হয় পদ্মার ইলিশ এবং দশমীতে গঙ্গার ইলিশ। দশমীর বিশেষ ভোগে থাকে ইলিশ মাছ ভাজা, ইলিশের তেল, কচুর শাক, পান্তা ভাত এবং শাপলার টক। শাস্ত্রীয় ভাবনায় বলা হয়, কৈলাসে ফিরে শিব ঠাকুরের প্রশ্নের মুখে পড়ে দেবী যেন বলতে পারেন তিনি কেবল সামান্য পান্তা ভাত ও মাছ ভাজা খেয়েছেন—মাকে সেই মিথ্যাচার থেকে রক্ষার্থেই এই পান্তা পানের প্রচলন।
চট্টোপাধ্যায় পরিবারের বিশ্বাস অনুযায়ী, দশমীতে মা দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের সঙ্গে সঙ্গেই বছরের মতো ইলিশ খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়; এরপর আবার বসন্তকালে সরস্বতী পুজোর দিনই মেলে ইলিশ খাওয়ার সুযোগ। তাই দশমীর দিন মায়ের সঙ্গেই বছরের শেষ ইলিশ মাছ গ্রহণ করেন পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি এই বাড়ির পুজোয় ছানার মিষ্টির কোনো স্থান নেই, বদলে নিবেদন করা হয় ক্ষীরের মিষ্টি ও পায়েস। ভাসান পর্ব চুকিয়ে গৃহপ্রবেশের পর পরিবারের সকলে একসঙ্গে পাঁঠার মাংসের কিমার ঘুগনি ও চন্দ্রপুলি খাওয়ার মাধ্যমে উৎসবের মিষ্টি মধুর সমাপন ঘটান।
