Anupam Kher: ‘খারাপটা ভাবলে ভালোটা কেন নয়?’ অনুপম খেরের এক প্রশ্নেই তোলপাড় নেটদুনিয়া, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

সময়ের দ্রুতগতি আর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা আধুনিক মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে এক গভীর মানসিক সঙ্কটে। টিনএজার থেকে মধ্যবয়সী—সবার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে ওভার থিঙ্কিং বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা। এই প্রেক্ষাপটে বলিউড অভিনেতা অনুপম খেরের একটি সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, মানুষ যদি সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির কথা ভেবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করতে পারে, তবে কেন ভালো কোনো পরিণতির কথা ভেবে সময় কাটায় না? অভিনেতার এই সহজ অথচ তীক্ষ্ণ প্রশ্নটি ভার্চুয়াল জগতে ভাইরাল হওয়ার পাশাপাশি মানুষকে জীবনদর্শন নিয়ে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।
অতিরিক্ত চিন্তার নেপথ্যে থাকা মনস্তত্ত্ব
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নেতিবাচক চিন্তা কেবল হতাশা নয়, বরং মানুষের মনে এক ধরনের কাল্পনিক ভয়ের দেয়াল তৈরি করে। মানুষ যখন খারাপ কিছু ভাবা শুরু করে, তখন সে অবচেতনভাবেই সেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করার কাল্পনিক পথ খুঁজতে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় অনেক সময় বাস্তব ও কল্পনার সীমা ঝাপসা হয়ে যায়, যা মস্তিষ্ককে প্রবল চাপের মুখে ঠেলে দেয়। অভিনেতার প্রস্তাবিত ‘পজিটিভ চিন্তা’ আপাতদৃষ্টিতে স্বস্তিদায়ক মনে হলেও মনোবিদরা বলছেন, কেবল ইতিবাচক ভাবনাই সব সমস্যার সমাধান নয়। কারণ, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস বা অবাস্তব পজিটিভ চিন্তাও মানুষকে জীবনের কঠিন সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে।
ভারসাম্যপূর্ণ জীবন ও উত্তরণের পথ
অতিরিক্ত চিন্তা বা ওভার থিঙ্কিং থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে বিশেষজ্ঞরা সচেতনতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। যখনই কোনো নেতিবাচক চিন্তা মনকে গ্রাস করতে আসবে, তখনই নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত—ভাবনাটি কি বাস্তব নাকি স্রেফ ভয় থেকে জন্মানো কল্পনা? এই সূক্ষ্ম পার্থক্য ধরতে পারাই হচ্ছে সুস্থ মানসিকতার চাবিকাঠি। এছাড়া নিয়মিত প্রাণায়াম, যোগ ব্যায়াম এবং ‘মাইন্ডফুলনেস’ বা বর্তমান মুহূর্তে বেঁচে থাকার অভ্যাস করলে মস্তিষ্কের ওপর থেকে অকারণ চাপের বোঝা কমানো সম্ভব। জীবনকে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো চরম প্রান্তে না নিয়ে গিয়ে বাস্তবসম্মত ভারসাম্য বজায় রাখাই আধুনিক মানসিক অস্থিরতার প্রধান দাওয়াই।
এক ঝলকে
- অভিনেতা অনুপম খেরের ওভার থিঙ্কিং বিষয়ক পোস্ট নেটদুনিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
- বর্তমান ব্যস্ত জীবনে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা থেকে মানুষের মনে নেতিবাচক চিন্তার প্রকোপ বাড়ছে।
- বিশেষজ্ঞরা অতি-ইতিবাচকতা ও অতি-নেতিবাচকতা—উভয়কেই মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন।
- সচেতনতা, নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ও বাস্তববাদী চিন্তার মাধ্যমে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
