EVM-এ আলকাতরা-কালি! ৭৭টি বুথে কারচুপির অভিযোগ, পুনর্নির্বাচন কি অবধারিত? আজই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশনের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ভোট হলেও ইভিএম কারচুপির একাধিক গুরুতর ঘটনায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভোট চলাকালীন বিভিন্ন বুথে ইভিএম মেশিনে কালো টেপ, আঠা, কালি ও আলকাতরা লাগানোর মতো মোট ৭৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলাতেই এই ধরনের কারচুপির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে, যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু দক্ষিণ ২৪ পরগণা
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রাপ্ত ৭৭টি অভিযোগের মধ্যে ফলতা থেকেই এসেছে ৩২টি অভিযোগ। এছাড়া ডায়মন্ড হারবার থেকে ২৯টি, মগরাহাট থেকে ১৩টি এবং বজবজ থেকে ৩টি অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে কমিশন জানিয়েছে, ২৩টি ক্ষেত্রে ইভিএমে কারসাজি করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে প্রার্থীর নাম, প্রতীক বা ভোট দেওয়ার বোতাম কালি ও টেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো ভোট প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।
কঠোর ব্যবস্থা ও আইনি পদক্ষেপ
ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন আগেই প্রিসাইডিং অফিসারদের বিশেষ নির্দেশিকা দিয়েছিল। নির্দেশ অনুযায়ী, ইভিএম-এ কোনো রাসায়নিক বা সুগন্ধি ব্যবহার করাও দণ্ডনীয় অপরাধ, কারণ এতে ভোটারের পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, এই ধরনের হস্তক্ষেপ একটি গুরুতর নির্বাচনী অপরাধ। দোষীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বুথগুলোতে পুনরায় ভোট গ্রহণের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
আজই নির্বাচন কমিশনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সমস্ত অভিযোগ এবং প্রামাণ্য নথি খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। যেসব কেন্দ্রে কারচুপির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, সেখানে পুনর্নির্বাচনের দিনক্ষণ আজই ঘোষণা করা হতে পারে।
এক ঝলকে
- দ্বিতীয় দফার ভোটে ইভিএম কারসাজি সংক্রান্ত মোট ৭৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে।
- দক্ষিণ ২৪ পরগণার ফলতা ও ডায়মন্ড হারবারে কারচুপির হার সবচেয়ে বেশি।
- ২৩টি ক্ষেত্রে ইভিএমে আলকাতরা বা কালি লাগানোর প্রমাণ পেয়েছে কমিশন।
- ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রগুলোতে পুনর্নির্বাচন ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
