KYC না করলেই কি সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট? জেনে নিন RBI-এর আসল নিয়ম! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 19, 20261:00 pm
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের KYC আপডেটের সময়সীমা পার হয়ে গেলেই কি আপনার অ্যাকাউন্ট রাতারাতি বন্ধ বা ফ্রিজ হয়ে যাবে? এই নিয়ে অনেকের মনেই নানা আতঙ্ক কাজ করে। তবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) স্পষ্ট নির্দেশিকা বলছে, মেয়ার্দ পেরোলেই ব্যাঙ্ক হঠাৎ করে অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে না।
KYC কী এবং কেন এটি বাধ্যতামূলক? KYC-এর পুরো অর্থ হলো ‘Know Your Customer’ (আপনার গ্রাহককে জানুন)। এর মাধ্যমে ব্যাঙ্ক গ্রাহকের সঠিক পরিচয়, ঠিকানা এবং অন্যান্য তথ্য নিয়মিত যাচাই করে।
- কেন প্রয়োজন: আর্থিক জালিয়াতি, বেআইনি কালো টাকার লেনদেন এবং সন্ত্রাসে অর্থ জোগান রোখাই KYC-এর মূল উদ্দেশ্য।
- কখন প্রয়োজন: নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার সময় তো বটেই, তা ছাড়াও নির্দিষ্ট সময় অন্তর KYC আপডেট করতে হয়। পাশাপাশি, ব্যাঙ্কে ৫০,০০০ টাকা বা তার বেশি লেনদেন, আন্তর্জাতিক টাকা পাঠানো এবং কিছু নির্দিষ্ট ক্রেডিট কার্ড পেমেন্টের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য।
সময়সীমা পেরিয়ে গেলে কী পদক্ষেপ নেয় ব্যাঙ্ক? মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয় না। আরবিআই-এর পরিবর্তিত নিয়ম অনুযায়ী:
- বারংবার রিমাইন্ডার: KYC-এর সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে এবং পরে ব্যাঙ্ক গ্রাহককে একাধিকবার মেসেজ বা ইমেলের মাধ্যমে সতর্ক করে।
- আংশিক নিষেধাজ্ঞা (Partial Freeze): বারবার সতর্ক করার পরেও যদি নথি জমা না দেওয়া হয়, তবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘আংশিক ফ্রিজ’ জারি করে। অর্থাৎ, সব পরিষেবা বন্ধ না করে কিছু নির্দিষ্ট লেনদেনে সাময়িক বিধিনিষেধ আনা হয়।
- সহজেই সচল করার সুযোগ: প্রয়োজনীয় সঠিক নথি (আইডি ও ঠিকানার প্রমাণ) ব্যাঙ্কে জমা দিলেই অ্যাকাউন্ট পুনরায় পুরোপুরি চালু হয়ে যায়।
নিষ্ক্রিয় (Inoperative) অ্যাকাউন্ট বনাম KYC KYC বকেয়া থাকা এবং ‘ইনঅপারেটিভ’ অ্যাকাউন্ট— এই দুটো কিন্তু এক বিষয় নয়।
- কোনো অ্যাকাউন্টে যদি টানা ২ বছর গ্রাহকের তরফে কোনো ধরনের লেনদেন না হয়, তবেই সেটিকে ‘ইনঅপারেটিভ’ বা নিষ্ক্রিয় ধরা হয়।
- এই ধরনের অ্যাকাউন্টও গ্রাহক তাঁর হোম ব্রাঞ্চ বা নিকটস্থ যেকোনো শাখায় গিয়ে আবার চালু করতে পারেন। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অনলাইন বা ভিডিও KYC-এর সুবিধাও মিলছে।
তাই KYC আপডেটের তারিখ পেরিয়ে গেলেও প্যানিক না করে, নিকটস্থ ব্যাঙ্ক শাখা বা অনলাইন মাধ্যমের সাহায্য নিয়ে দ্রুত নথি জমা দিয়ে অ্যাকাউন্ট সচল রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
