NEET প্রশ্নফাঁস রুখতে এবার আসরে সেনা, পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় কড়া নজর রাখছে পিএমও – এবেলা

NEET প্রশ্নফাঁস রুখতে এবার আসরে সেনা, পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় কড়া নজর রাখছে পিএমও – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কের পর দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ২১ জুনের পুনঃপরীক্ষাকে সম্পূর্ণ নিচ্ছিদ্র ও স্বচ্ছ করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া পরীক্ষায় অনিয়মের জেরে তা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল প্রশাসন। এবার পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরাসরি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাহায্য নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বাসভবনে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) ডিরেক্টর জেনারেল অভিষেক সিং এবং প্রধানমন্ত্রী দফতরের (PMO) উচ্চপদস্থ কর্তাদের উপস্থিতিতে এই বৈঠক সম্পন্ন হয়। সরকারি সূত্রের খবর, বিগত দিনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার প্রশ্নপত্র তৈরি, মুদ্রণ থেকে শুরু করে তা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি তীক্ষ্ণ নজরদারি চালাচ্ছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর দফতর।

সুরক্ষায় লজিস্টিক সহায়তায় বায়ুসেনা

প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার ভারতীয় সেনা, বিশেষ করে বায়ুসেনার (IAF) লজিস্টিক সহায়তা নেওয়ার কথা গুরুত্ব সহকারে ভাবছে কেন্দ্র। দূরবর্তী ও সংবেদনশীল এলাকার পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে নিরাপদে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দিতে বায়ুসেনার বিমান বা হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হতে পারে। প্রশ্নপত্র পরিবহণ এবং সংরক্ষণের দায়িত্বে সেনার এই সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি দেশের বড় কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

কঠোর নজরদারির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

গত ৩ মে দেশের ৫৫১টি শহর ও বিদেশের ১৪টি কেন্দ্রে ২২ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থীর উপস্থিতিতে নিট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু ১২ মে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেই পরীক্ষা বাতিল করা হয়। এই ধরনের বড় কেলেঙ্কারি জাতীয় স্তরে শিক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। ফলে সরকারের ওপর জনমানসের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করাই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিরক্ষামন্ত্রকের এই লজিস্টিক সহযোগিতা এবং পিএমও-র সরাসরি হস্তক্ষেপের ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্রগুলো পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে। সরকারি স্তরে নিয়মিত এই পর্যালোচনার মাধ্যমে পরীক্ষার প্রতিটি স্তরে গাফিলতি শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে, যা আগামী দিনে দেশের অন্যান্য বড় পরীক্ষার সুরক্ষাবিধি তৈরিতেও একটি দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *