PoK-তে সেনার সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ! মৃত অন্তত ২৮, রণক্ষেত্র পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সেনার সঙ্গে জনতা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মৃত্যুমিছিল!
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) বিভিন্ন এলাকায় আসিম মুনিরের সেনার বিরুদ্ধে জনরোষের বিস্ফোরণ ঘটেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (JAAC) সমর্থক ও পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে চলা তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ২৮ জন নিহত এবং ২০০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো হয়ে উঠেছে যে, ৯ জুন পুরো এলাকা অচল করে দিয়ে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বঞ্চনা ও লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিই অস্থিরতার কারণ
মূলত দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বঞ্চনা ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা এই আন্দোলনের নেপথ্যে বড় কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। অঞ্চলের ৪৫ সদস্যের বিধানসভায় ১২টি আসন নির্দিষ্ট কিছু শরণার্থীর জন্য সংরক্ষিত রাখা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থার কারণে তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব সংকুচিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিদ্যুতের চড়া দাম, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে গত দুই বছর ধরেই সরব JAAC। গত সপ্তাহে প্রশাসন সংগঠনটিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় ক্ষোভের পারদ তুঙ্গে ওঠে।
সহিংসতার জেরে গভীর সংকটে জনজীবন
গত রবিবার রাওয়ালাকোটে পুলিশের গুলিতে এক আন্দোলনকারী নিহতের ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সরকারি সূত্রের দাবি, সংঘর্ষে ৪ পুলিশকর্মীসহ বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে, তবে JAAC নেতৃত্বের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা সরকারি তালিকার চেয়েও অনেক বেশি।
এই অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে প্রশাসনিক ও সামাজিক জীবনে। আসন্ন ২৭ জুলাইয়ের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসন এলাকাটিতে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। একাধিক জায়গায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং বড় ধরনের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এদিকে, পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন এই দমন-পীড়নের নিন্দা জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানালেও সহিংসতা থামার কোনো লক্ষণ নেই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। আমেরিকা, ব্রিটেন ও ক্যানাডাসহ একাধিক দেশ তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে, যা অঞ্চলটির বিচ্ছিন্নতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে।
