SRFTI-তে গভীর রাতে রক্তক্ষয়ী তাণ্ডব! রক্তাক্ত পড়ুয়ারা, অচল ক্যাম্পাসে ৩টি পৃথক FIR – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 28, 20261:32 pm
কলকাতা: রবিবার সন্ধ্যা হতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দেশের অন্যতম প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)। টানা ৭-৮ ঘণ্টা ধরে চলা তাণ্ডব, ধস্তাধস্তি এবং রক্তারক্তিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল সমগ্র এলাকা। ঘটনার জেরে পঞ্চসায়র থানায় ইতিমধ্যেই ৩টি পৃথক এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে— একটি গ্রাহক পঞ্চায়েতের তরফে, একটি পড়ুয়াদের একাংশের এবং অন্যটি পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত।
ঠিক কী ঘটেছিল রবিবার? রবিবার দুপুরে ক্যাম্পাসের মূল প্রেক্ষাগৃহে আরএসএস (RSS) ঘনিষ্ঠ সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত’ (ABGP) একটি সভার আয়োজন করেছিল। অভিযোগ, সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আয়োজকদের বচসা শুরু হয়। জল গড়ায় বহিরাগতদের হামলায়— রড, ছুরি ও ইট নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। ইটের আঘাতে এক পড়ুয়া গুরুতর জখম হন, বাদ যাননি ছাত্রীরাও।
অন্যদিকে, সংঘাতের পাল্টা যুক্তি দিয়েছে আরএসএস ঘনিষ্ঠ সংগঠনটি। তাদের দাবি, স্বামী বিবেকানন্দ এবং ভারতমাতার পোস্টার ছিঁড়ে সভা ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করে পড়ুয়াদের একাংশ। এই সংঘর্ষে তাদেরও ৫ জন সদস্য জখম হয়েছেন বলে দাবি। ঘটনার জেরে বাস ঘেরাও, ইটবৃষ্টি ও হাসপাতাল পৌঁছাতে বাধার মতো একাধিক নাটকীয় ঘটনা ঘটে। অবশেষে নবনিযুক্ত উপাচার্য সন্তোষ আজমেরা ও কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান সুরেশ গোপী ঘটনার কড়া নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে: ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন ঊর্ধ্বমুখী:
- রুদ্রনীল ঘোষ (BJP): ঘটনাকে ‘অতিবাম মানসিকতার অরাজকতা’ বলে তোপ দাগেন বিজেপি নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, সনাতন ধর্ম ও বিবেকানন্দের আদর্শের বিরোধীরাই এই কাজ করেছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা দায়েরের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
- সৃজন ভট্টাচার্য ও দীপ্সিতা ধর (Left): বাম নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, বিজেপির ‘শকুন ও গরুদের’ নজর পড়েছে বাংলার গর্বের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। গণতান্ত্রিক দেশে এ হেন হামলা বরদাস্ত করা যায় না বলে ছাত্রসমাজকে বয়কটের ডাক দিয়েছেন তাঁরা।
- বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য (CPIM): বর্ষীয়ান এই বাম নেতা সোজা আরএসএসকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, “উৎকর্ষ বিদ্যালয় গড়ার ক্ষমতা নেই, আছে শুধু ধ্বংসের ইতিহাস। মুক্ত চিন্তার শিক্ষাঙ্গন ধ্বংস করতে চাইছে আরএসএস।”
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে দেশের বুদ্ধিজীবী ও বিনোদন জগতে এখন এই কাণ্ড নিয়ে তুমুল শোরগোল। পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার না করলেও ক্যাম্পাসে মোতায়েন রয়েছে কড়া নিরাপত্তা।
