TCS ধর্মান্তর কাণ্ডে বড় মোড়: AIMIM কাউন্সিলরের বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন মূল অভিযুক্ত নিদা খান, জালে ৮ জন!

নাসিকের টিসিএস কার্যালয়ে ধর্মান্তর ও যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দীর্ঘ ২৭ দিন পলাতক থাকার পর অবশেষে গ্রেফতার হয়েছেন মূল অভিযুক্ত নিদা খান। চাঞ্চল্যকর এই তদন্তে উঠে এসেছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের তথ্য। পুলিশি অভিযানে জানা গেছে, ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে এআইএমআইএম কাউন্সিলর মতিন প্যাটেলের বাড়িতে আত্মগোপন করেছিলেন নিদা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেফতারের পর শুক্রবার নাসিক আদালতে তোলা হলে ১১ মে পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলর মতিন প্যাটেলকেও এই মামলায় সহ-অভিযুক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে প্রশাসন।
ষড়যন্ত্রের আন্তর্জাতিক জাল ও এনআইএ তদন্ত
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, নিদা খান কেবল একা নন, বরং একটি সুসংগঠিত চক্রের অংশ হিসেবে কাজ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি টিসিএস-এ কর্মরত নারী সহকর্মীদের হিজাব পরতে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করতেন। এমনকি তাদের মোবাইলে উগ্র ধর্মীয় অ্যাপ ও ইউটিউব লিংক পাঠিয়ে মগজধোলাইয়ের চেষ্টা চালাতেন। তদন্তে মালয়েশিয়ার ‘ইমরান’ নামক এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, যার মাধ্যমে নারীদের বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল নিদার। এই চক্রের সঙ্গে কোনো জঙ্গি সংগঠনের যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এখন এনআইএ এবং রাজ্য এটিএস সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও সম্ভাব্য প্রভাব
নিদা খানের এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী সঞ্জয় শিরসাট সরাসরি দাবি করেছেন যে, সাবেক সাংসদ ইমতিয়াজ জলিল এই পলাতক আসামিকে সুরক্ষা দিচ্ছিলেন। উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশও এই ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ধর্মান্তর র্যাকেটের পেছনে থাকা প্রতিটি রাঘববোয়ালকে খুঁজে বের করা হবে। অভিযুক্তদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আসা অর্থের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যা থেকে বড় কোনো আন্তর্জাতিক অর্থায়নের হদিস মিলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- টিসিএস ধর্মান্তরকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত নিদা খান এআইএমআইএম কাউন্সিলর মতিন প্যাটেলের আশ্রয়ে থাকাকালীন গ্রেফতার।
- অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নারী কর্মীদের হিজাব পরতে বাধ্য করা এবং মালয়েশিয়ায় পাচারের পরিকল্পনার অভিযোগ।
- এই ঘটনায় এনআইএ এবং এটিএস তদন্ত শুরু করেছে এবং কাউন্সিলর মতিন প্যাটেলকে সহ-অভিযুক্ত করা হয়েছে।
- আদালত নিদা খানকে ১১ মে পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
