UPI লেনদেনে বড় বদল, ১০ হাজার টাকার বেশি পেমেন্টে গ্রাহককে করতে হতে পারে দীর্ঘ অপেক্ষা

ভারতে ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চলেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI)। বর্তমানে স্মার্টফোনের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা সম্ভব হলেও, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এবার সেই গতিতে রাশ টানার প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকার বেশি ডিজিটাল লেনদেন সম্পন্ন হতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগতে পারে।

কেন এই সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব

গত কয়েক বছরে ভারতে ডিজিটাল লেনদেনের প্রসারের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সাইবার জালিয়াতি। বিশেষ করে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ এবং হ্যাকারদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দেওয়ার ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সমীক্ষা অনুযায়ী, ১০ হাজার টাকার বেশি ইউপিআই (UPI) লেনদেনের ক্ষেত্রে জালিয়াতির অভিযোগের হার প্রায় ৯৮ শতাংশ। এই বিশাল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি রুখতেই মূলত লেনদেনের গতি কমিয়ে নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা ভাবছে আরবিআই।

‘গোল্ডেন আওয়ার’ বা সোনালি ঘণ্টার সুবিধা

প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে ১০ হাজার টাকার বেশি অর্থ ট্রান্সফার করলে তা তৎক্ষণাৎ প্রাপকের অ্যাকাউন্টে জমা হবে না। এর জন্য প্রেরককে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। এই সময়সীমাটিকে আরবিআই ‘সোনালি ঘণ্টা’ বা ‘গোল্ডেন আওয়ার’ হিসেবে অভিহিত করছে। এর মূল সুবিধাগুলো হলো:

  • লেনদেন বাতিলের সুযোগ: অর্থ পাঠানোর পর যদি প্রেরক বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তবে ওই এক ঘণ্টার মধ্যে লেনদেনটি বাতিল করার সুযোগ থাকবে।
  • পরিস্থিতি যাচাই: বড় অঙ্কের টাকা সরানোর ক্ষেত্রে গ্রাহক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন।
  • ব্যাঙ্কের হস্তক্ষেপ: অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কগুলো দ্বিতীয়বার নিশ্চিত হওয়ার জন্য তথ্য চাওয়ার বা হস্তক্ষেপ করার অধিকার পাবে।

কাদের ওপর প্রভাব পড়বে এবং কাদের পড়বে না

আরবিআই স্পষ্ট করেছে যে এই নিয়মটি ঢালাওভাবে সবার জন্য প্রযোজ্য নাও হতে পারে। বিশেষ করে দৈনন্দিন কেনাকাটা বা পরিষেবা খাতের লেনদেনকে এর আওতার বাইরে রাখার কথা ভাবা হচ্ছে:

  • অপরিবর্তিত ক্ষেত্র: দোকান-বাজারে কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট, স্কুল-কলেজের ফি বা বাজার করার ক্ষেত্রে বর্তমানের দ্রুত গতি বজায় থাকতে পারে। কারণ এসব ক্ষেত্রে জালিয়াতির ঝুঁকি তুলনামূলক কম।
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্র: মূলত ব্যক্তি-টু-ব্যক্তি (P2P) বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রেই এই এক ঘণ্টার নিয়ম কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জালিয়াতি রোধে কড়া পদক্ষেপ

ইউপিআই ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা এনপিসিআই (NPCI) মূলত আরবিআই-এর নির্দেশেই পরিচালিত হয়। বর্তমানে ইউপিআই-তে একবার টাকা চলে গেলে তা ফেরত পাওয়া প্রায় আসাম্ভব হয়ে পড়ে। নতুন ব্যবস্থায় লেনদেন কিছুটা ধীরগতির হলেও এটি সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থকে হ্যাকারদের হাত থেকে সুরক্ষা দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সন্দেহজনক লেনদেন চিহ্নিত করতে ব্যাঙ্কগুলোকে আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনাও এই প্রস্তাবের অংশ।

এক ঝলকে

  • ১০,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে ১ ঘণ্টা অপেক্ষার প্রস্তাব।
  • জালিয়াতি রুখতে এবং টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্ত।
  • সন্দেহজনক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের যাচাইকরণের ক্ষমতা বৃদ্ধি।
  • দোকান বা বাজারের কিউআর কোড পেমেন্টে কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
  • ১০,০০০ টাকার ওপর জালিয়াতির হার ৯৮ শতাংশ হওয়ায় এই কড়া পদক্ষেপ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *