অজ্ঞাত বন্দুকবাজের গুলিতে খতম পুলওয়ামার মাস্টারমাইন্ড, জানাজাতেও তাড়া করল সিক্রেট কিলারের আতঙ্ক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে অজ্ঞাত বন্দুকবাজের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গেছে ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার অন্যতম মূল চক্রী হামজা বুরহান। সম্প্রতি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদীর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড হিজবুল মুজাহিদিন প্রধান সৈয়দ সালাহউদ্দিন এবং আল-বদরের শীর্ষ কমান্ডার বখত জমিন খানসহ একাধিক প্রধান সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে এই জানাজায় অংশ নেয়। তবে জানাজায় উপস্থিত কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদীদের চোখে-মুখে ছিল স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ।
একে-৪৭ রাইফেলধারীদের কড়া পাহারায় জানাজা
জানাজা চলাকালীন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল উপস্থিত জঙ্গি নেতারা। বিশেষ করে আল-বদর প্রধান বখত জমিন খানকে রক্ষা করার জন্য একে-৪৭ ও অন্যান্য আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল সন্ত্রাসবাদীকে মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে কড়া নিরাপত্তা ও আধুনিক অস্ত্রের বেষ্টনী থাকা সত্ত্বেও উপস্থিত শীর্ষ কমান্ডারদের মনে ছিল অজ্ঞাত ভয়। পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে গত ৫ বছরে ২৬ জন মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গিকে বেছে বেছে হত্যা করার ঘটনা এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তীব্র ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। যেকোনো মুহূর্তে অজ্ঞাত বন্দুকধারী বা ‘সিক্রেট কিলার’ তাদের ওপরও হামলা চালাতে পারে, এই আশঙ্কাই গ্রাস করেছে বাকি জঙ্গি নেতাদের।
আইএসআই যোগ ও উপত্যকায় নাশকতার জাল
নিহত হামজা বুরহানকে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হতো। কর্নেল রিজওয়ান নামে এক আইএসআই কর্মকর্তা ছিল হামজার প্রধান নিয়ন্ত্রক, যে তাকে ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের নির্দেশ ও ভিআইপি নিরাপত্তা দিত। হামজা মুজাফফারাবাদের ‘ম্যাচ ফ্যাক্টরি’ নামের একটি শিল্প কমপ্লেক্স থেকে নিজের পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত। সেখানে আল-বারাকের প্রাক্তন কমান্ডার ফারুক কুরেশীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাশ্মীর উপত্যকায় মাদক চোরাচালান, জাল মুদ্রা এবং অস্ত্র সরবরাহের মতো একাধিক অবৈধ ও নাশকতাপূর্ণ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করত সে। এই শীর্ষস্তরের জঙ্গির আকস্মিক মৃত্যুতে পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক বড়সড় ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
