অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর ভারত: ২,৮৬০টি আবেদন ঝুলে থাকায় ঢাকাকে কড়া বার্তা দিল্লির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে। সম্প্রতি ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারতের মাটিতে বেআইনিভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও আইন মেনে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দ্রুত সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে দিল্লি। ভারতের এই কড়া বার্তা এবং বাংলাদেশের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের সমীকরণ এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
নাগরিকত্ব যাচাইয়ে দীর্ঘসূত্রতা ও দিল্লির অসন্তোষ
ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২,৮৬০ জন ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আবেদন বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ঝুলে আছে। এর মধ্যে কিছু আবেদন পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে পড়ে থাকায় দিল্লির অস্বস্তি বাড়ছে। ভারতের নীতি অনুযায়ী, কোনও বিদেশি নাগরিক বেআইনিভাবে ভারতে থাকলে তাকে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করা একটি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া। তবে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি মসৃণ করার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি বলে মনে করছে ভারত।
পাল্টা হুঁশিয়ারি এবং তিস্তা ইস্যুর ছায়া
ভারতের এই অবস্থানের বিপরীতে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান সাফ জানিয়েছেন, যদি সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক ‘পুশব্যাক’ করা হয়, তবে বাংলাদেশও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। বিশেষ করে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার অনুপ্রবেশকারী সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং ২০ জনকে ফেরত পাঠানোর দাবি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনের আধিকারিককে তলব করে কড়া প্রতিবাদও জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
অনুপ্রবেশ ছাড়াও তিস্তা নদীর জলবন্টন এবং এই প্রকল্পে চিনের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। ভারত দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে ৫৪টি অভিন্ন নদীর সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিলেও, তিস্তা চুক্তি ঝুলে থাকায় বাংলাদেশের কৃষিখাতে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একদিকে অনুপ্রবেশকারী ফেরানোর চাপ, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা ইস্যু— সব মিলিয়ে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীর সামনে এখন এক জটিল চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত নিরসন না হলে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীর বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
