অনুপ্রবেশ রুখতে শুভেন্দুর জমিনীতি, গান্ধীনগর থেকে দরাজ প্রশংসায় অমিত শাহ – এবেলা

অনুপ্রবেশ রুখতে শুভেন্দুর জমিনীতি, গান্ধীনগর থেকে দরাজ প্রশংসায় অমিত শাহ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষায় বর্তমান রাজ্য সরকারের ভূমিকা এবং অনুপ্রবেশ বিরোধী কড়া পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার নিজের সংসদীয় কেন্দ্র গান্ধীনগরের একটি জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানান, বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় যেখানে বাংলায় প্রতিদিন সীমান্ত টপকে অনুপ্রবেশ চলত, সেখানে বর্তমান সরকারের অধীনে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর সীমান্ত সুরক্ষায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের দ্রুত সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

চলতি প্রশাসনিক তৎপরতার অংশ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, সীমান্ত পাহারা আরও নিশ্ছিদ্র করতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিএসএফ-কে মোট ১৪২.৭৯ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মুর্শিদাবাদ জেলাতেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণ জমি দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পদের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক থেকেই এই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়, যা সীমান্ত সুরক্ষায় অভূতপূর্ব গতি এনেছে।

ঐতিহাসিক পদক্ষেপ এবং পুনর্বাসন নীতি

অনুপ্রবেশ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে এক নজিরবিহীন নীতিগত মিল দেখা যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন, যে সব বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী আইনি জটিলতা এড়িয়ে স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যেতে চান, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক বা আইনি পদক্ষেপ করা হবে না। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও সমান্তরালভাবে একই নীতি নিয়ে জানিয়েছেন, যাঁরা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) আওতাভুক্ত নন, তাঁদের গ্রেপ্তার না করে সরাসরি বিএসএফের মাধ্যমে নিরাপদে সীমান্তের ওপারে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও জনবিন্যাস সমীক্ষা

এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পটপরিবর্তনের ফলে পূর্ব সীমান্তে অনুপ্রবেশের চিরাচরিত সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিএসএফ-এর হাতে প্রয়োজনীয় জমি আসায় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং নজরদারি চৌকি স্থাপনের কাজ গতি পাবে। অন্যদিকে, সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে বিগত বছরগুলোতে অনুপ্রবেশের কারণে জনবিন্যাসের (ডেমোগ্রাফি) কী ধরনের চারিত্রিক বদল ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে একটি উচ্চস্তরীয় কমিটি গঠন করেছেন অমিত শাহ। এই কমিটির প্রাথমিক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই আগামী মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বয়ং বাংলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো পরিদর্শনে আসছেন, যা আগামী দিনে সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও জোরদার করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *