অভিনব গান্ধীগিরি! দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে ডিম না ছুড়ে খাওয়ানো হল অমলেট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য জুড়ে দুর্নীতির অভিযোগে যখন জনরোষ ও শাসকদলের নেতাদের উদ্দেশে ডিম ছোড়ার ঘটনা প্রায় নৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঠিক তখনই দুর্গাপুরে দেখা গেল এক সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। দুর্নীতির প্রতিবাদে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার বদলে ‘গান্ধীগিরি’র পথ বেছে নিলেন সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মীরা। অভিযুক্ত এক তৃণমূল নেতাকে শারীরিক নিগ্রহ বা ডিম ছোড়ার পরিবর্তে চেয়ারে বসিয়ে কার্যত ‘জামাই আদর’ করে অমলেট খাওয়ালেন তাঁরা।
পাট্টা দুর্নীতির অভিযোগ ও জনরোষ
এই অভিনব প্রতিবাদের নেপথ্যে রয়েছে দুর্গাপুরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে জমির পাট্টা দেওয়ার নামে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ। জানা গিয়েছে, বিদায়ী তৃণমূল কাউন্সিলর শিপুল সাহা ও তাঁর অনুগামীরা মহানন্দ কলোনি, বীরভানপুর-সহ একাধিক এলাকার মানুষের কাছ থেকে পাট্টা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। শনিবার রাতে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে ব্যাগভর্তি পাট্টার ফর্ম উদ্ধারের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা। পাট্টার ফর্ম ও ঝাঁটা হাতে নিয়ে রাস্তায় নামেন তাঁরা, দাবি ওঠে অবিলম্বে টাকা ফেরত দেওয়ার।
ডিমের বদলে অমলেট ও সম্ভাব্য প্রভাব
পরিস্থিতির উত্তাপের মধ্যে বিদায়ী কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ অনুগামী সুকুমার চক্রবর্তীকে ডেকে পাঠানো হয়। কিন্তু উত্তেজিত জনতা তাঁকে হেনস্থা করার বদলে চেয়ারে বসিয়ে অমলেট খেতে দেন এবং খোয়া যাওয়া টাকার হিসাব চান। স্থানীয় বিজেপি নেতা দীপক দাসও এই টাকার পূর্ণাঙ্গ হিসাব দাবি করেন। সুকুমারবাবু অবশ্য পুরো দায় বিদায়ী কাউন্সিলরের ওপরই চাপিয়েছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই ধরনের ব্যঙ্গাত্মক ও অহিংস প্রতিবাদ শাসকদলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, শারীরিক আক্রমণের বদলে এই ‘জামাই আদর’ আসলে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই এক সুচতুর বহিঃপ্রকাশ, যা আগামী দিনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনআন্দোলনে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
