‘অভিযুক্তের কথা শোনা বাধ্যতামূলক’, ইডি-কে বড় ধাক্কা সুপ্রিম কোর্টের – এবেলা

‘অভিযুক্তের কথা শোনা বাধ্যতামূলক’, ইডি-কে বড় ধাক্কা সুপ্রিম কোর্টের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইডিকে বড় ধাক্কা সুপ্রিম কোর্টের, পিএমএলএ মামলায় যুগান্তকারী রায় শীর্ষ আদালতের!

আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইন বা পিএমএলএ (PMLA) সংক্রান্ত মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র একচেটিয়া ক্ষমতা খর্ব করে এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে দেশের সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে, যেকোনো আর্থিক তছরুপের মামলায় আদালতের তরফে আইনি পদক্ষেপ বা ‘সংজ্ঞান’ (Cognizance) নেওয়ার আগে অভিযুক্তের বক্তব্য শোনা বাধ্যতামূলক। বিচারপতি এম এম সুন্দরেস এবং বিচারপতি এন কে সিং-এর বেঞ্চ ইডি-র এই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে যে, পিএমএলএ একটি বিশেষ আইন হওয়ায় এতে সাধারণ ফৌজদারি বিধির নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

মৌলিক অধিকার রক্ষা ও নতুন আইনের প্রভাব

শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে যে, ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিরপেক্ষ শুনানির অধিকার রয়েছে, যা একটি মৌলিক অধিকার। পিএমএলএ-র মতো কঠোর আইনের দোহাই দিয়ে এই অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। যদি কোনো বিশেষ আদালত অভিযুক্তের পক্ষ না শুনেই মামলার সংज्ञान নেয়, তবে আইনি প্রক্রিয়ার সেই সূচনা শুরু থেকেই অবৈধ বা শূন্য বলে গণ্য হবে। ১ জুলাই ২০২৪ থেকে দেশে কার্যকর হওয়া নতুন ফৌজদারি বিধি ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতাকে (BNSS) নাগরিক-কেন্দ্রিক হিসেবে উল্লেখ করে আদালত জানায়, এর নিরপেক্ষ বিচারপ্রক্রিয়ার নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কোনো তদন্তকারী সংস্থার নেই।

মামলার পটভূমি ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব

২০২৪ সালের জুন মাসে ইডি-র দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে এই রায় এসেছে, যেখানে অভিযুক্তকে কোনো শুনানির সুযোগ না দিয়েই বিশেষ আদালত মামলার সংज्ञान নিয়েছিল এবং হাইকোর্টও তাতে সিলমোহর দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে ইডি-র একতরফা ক্ষমতা অনেকটাই হ্রাস পাবে এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে। এর ফলে একদিকে যেমন রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসামূলক হেনস্তা থেকে অভিযুক্তরা আইনি সুরক্ষা পাবেন, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

এক ঝলকে

  • পিএমএলএ মামলায় আদালতের পদক্ষেপ নেওয়ার আগে এখন থেকে অভিযুক্তের পক্ষ শোনা বাধ্যতামূলক করল সুপ্রিম কোর্ট।
  • ইডি-র দাবি খারিজ করে আদালত জানিয়েছে, কঠোর বিশেষ আইন হলেও সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের মৌলিক অধিকার খর্ব করা যাবে না।
  • অভিযুক্তকে না শুনে আদালতের নেওয়া যেকোনো পদক্ষেপ শুরু থেকেই আইনিভাবে অবৈধ বলে গণ্য হবে।
  • নতুন ফৌজদারি বিধিকে (BNSS) নাগরিক-কেন্দ্রিক আখ্যা দিয়ে তদন্ত সংস্থাকে আইন মেনে চলার কড়া নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *