অভিষেকের আপ্ত-সহায়কের খোঁজে ভোররাতে কালীঘাটে তুলকালাম, চার ঘণ্টা পর দরজা ভেঙে ঢুকল পুলিশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে ভোররাতে পুলিশের ম্যারাথন অভিযান ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাঁর আপ্ত-সহায়ক (পিএ) সুমিত রায়ের খোঁজে শালবনি থানার পুলিশ এই তল্লাশি অভিযান চালায়। তবে দীর্ঘ নাটকের পর পুলিশ ভেতরে ঢুকলেও সুমিতের কোনো হদিশ মেলেনি এবং বাড়ি থেকে কোনো কিছু বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
ভোররাতের রুদ্ধশ্বাস নাটক ও পুলিশের অভিযান
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ১টা নাগাদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাসভবনে সুমিত রায়ের ফোনের টাওয়ার লোকেশন পাওয়া যায়। এর ঠিক ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই শালবনি থানার পুলিশের একটি দল সেখানে হাজির হয়। তবে পুলিশ পৌঁছালেও বাড়ির দরজা খুলতে দীর্ঘ চার ঘণ্টা সময় নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না দেখে সকাল ৬টা নাগাদ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন পুলিশ আধিকারিকরা। প্রায় ঘণ্টা দেড়েক তল্লাশি চালানোর পর সকাল ৮টা নাগাদ খালি হাতেই সেখান থেকে বেরিয়ে যান তদন্তকারীরা।
সরকারি জমি দুর্নীতি এবং সুমিতের সম্পৃক্ততা
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, সম্প্রতি সরকারি জমি কেলেঙ্কারি এবং বড় অঙ্কের আর্থিক তছরূপের অভিযোগে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে লাগাতার জেরার পরই উঠে আসে অভিষেকের আপ্ত-সহায়ক সুমিত রায়ের নাম। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি জমির চরিত্র বদলে তা চড়া দামে বিক্রি করার একটি চক্রের সঙ্গে সুমিত সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং ধৃত সুজয়ের সঙ্গে তাঁর বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই শালবনি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। উল্লেখ্য, এর আগে কয়লা পাচার কাণ্ডেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর জেরার মুখে পড়েছিলেন এই সুমিত।
তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর ও সম্ভাব্য প্রভাব
কালীঘাটের মতো হাই-প্রোফাইল এলাকায় স্বয়ং শাসকদলের শীর্ষ নেতার বাড়িতে পুলিশি অভিযানের এই ঘটনাটি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে বেশ উত্তপ্ত করে তুলেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযানকে সম্পূর্ণ ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘প্রতিহিংসামূলক’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই এই তল্লাশি, যার প্রমাণ হিসেবে ৯০ মিনিটের অভিযানে পুলিশ কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি। তবে এই ঘটনার জেরে আগামী দিনে দুর্নীতি মামলায় শাসকদলের অস্বস্তি যেমন বাড়বে, তেমনই সুমিত রায়ের খোঁজ না মেলায় তদন্তের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
